ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের লজ্জাজনক হারে নিজেদের ক্রিকেট দলকেই ধুয়ে দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম। স্বাগতিকদের এই পারফরম্যান্সকে স্থানীয় মিডিয়াগুলো ‘লজ্জাজনক পরাজয়’, ‘ডারউইন বিপর্যয়’ এমনকি ‘অসহনীয় দৃশ্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
‘দ্য ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ান’ পত্রিকার কলামিস্ট জশ কেম্পটন অসি দলকে ‘অসহায় এক সফরকারী দল’ হিসেবে কটাক্ষ করে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই হারকে চরম লজ্জার বলে উল্লেখ করেছেন।
একই সুর ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’ পত্রিকারও। তারা শিরোনাম করেছে: ‘ডারউইন বিপর্যয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের ওপর থেকে আস্থা উধাও।’ আরেকটি প্রতিবেদনে লেখা হয়, ‘চমকপ্রদ টেস্ট জয়ে অফ-ফর্মে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে লজ্জা দিল বাংলাদেশ।’
‘দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ স্বাগতিকদের ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে তাদের এক শিরোনামে লেখে,‘’সহজে হার না মানা এক দলের কাছে টেস্ট ব্যাটিংয়ের পাঠ নিল অস্ট্রেলিয়া।’ পত্রিকাটির অন্য একটি প্রতিবেদনে এই হারকে ‘ডারউইন বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অসি দলের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে সবচেয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে ‘দ্য নর্দান টেরিটরি নিউজ’-এর পক্ষ থেকে।
খেলোয়াড়দের রেটিং দিতে গিয়ে তারা শিরোনাম করে ‘অসহনীয় দৃশ্য’। অভিজ্ঞ ক্রিকেট লেখক রবার্ট ক্র্যাডক প্রশ্ন তুলেছেন: ‘কেন এটি অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম সেরা লজ্জাজনক টেস্ট হার’।
পত্রিকাটির ছাপা সংস্করণের প্রচ্ছদ দেখলেই বোঝা যায় অসি গণমাধ্যমের মেজাজ। প্রথম পাতায় বাংলাদেশি সমর্থকদের উদযাপনের ছবির ওপর বড় অক্ষরে লেখা: ‘ডারউইন বিপর্যয়: অসিদের ছিন্নভিন্ন করল টাইগাররা’। খেলার পাতায় শিরোনাম ছিল ‘ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ’, আর শেষ পাতায় ব্যঙ্গাত্মক শিরোনাম: ‘অসিদের বাজিয়ে দিল ব্যাঙ্গার্স (বাংলাদেশ)!’
নিজেদের মাটিতে প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে অভ্যস্ত একটি দলের জন্য অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমের এই ভাষা ছিল অস্বাভাবিক রকমের কঠোর। আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামা বাংলাদেশের কাছে এমন হারে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনি স্লো ওভার রেটের কারণে আইসিসির পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখেও পড়তে হতে পারে প্যাট কামিন্সদের।
