Saturday, August 22, 2026
Homeবাংলাদেশহোটেলে আগুনে মৃত্যু: সাতক্ষীরার একজনের শেষকৃত্য কলকাতাতেই, আরেকজনের মরদেহ দেশে

হোটেলে আগুনে মৃত্যু: সাতক্ষীরার একজনের শেষকৃত্য কলকাতাতেই, আরেকজনের মরদেহ দেশে

কলকাতার নিউ মার্কেটসংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের এক আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলীমুজ্জামান সাজুর (৪৮) মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে।

আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। আড়াইটার দিকে পৌঁছায় গ্রামের বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামে।

কালীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একই অগ্নিকাণ্ডে মৃত কালীগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকারের (৩৮) মরদেহ অবশ্য দেশে আনা হয়নি। কলকাতায় থাকা স্বজনরা আজ দুপুর ২টার দিকে নিমতলা মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।

সাজু পেশায় ছিলেন মাছের ঘেরের ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে কোমরের তীব্র ব্যথায় ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় এক সপ্তাহ আগে ভারতে যান। চিকিৎসা শেষে গত ১৯ আগস্ট তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান তিনি।

সাজুর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। বড় ভাই এস এম সাহেব আলী সরদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, বিকেলে বাড়ির পাশের মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে বাড়ির আঙিনায় সাজুর দাফন হয়েছে।

প্রতিবেশী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক বছর আগে সাজুর বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন। এরপর বড় ভাই ও ভাবিই ছিলেন তার অভিভাবক। সাজু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন-এই আশায় ভারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসা শেষে তার প্রাণটাই চলে গেল।’

প্রতিবেশী ও বন্ধু গোলাম রসুল বলেন, ‘দুই দিন আগেও ফোনে বলেছিল, চিকিৎসা শেষ হয়েছে। বুধবার দেশে ফিরবে। শুক্রবার একসঙ্গে জুমার নামাজ পড়ব। এসেছে, তবে জীবিত নয়, কফিনবন্দী হয়ে।’

ভোমরা ইমিগ্রেশনে পরিবারের পক্ষ থেকে সাজুর আরেক ভাই মাহবুবুর নবী দীপু মরদেহ গ্রহণ করেন।

অন্যদিকে, তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতীর বাড়িতে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। তার স্বামী ভবেশ সরকার ডেইলি স্টারকে জানান, গত ১২ আগস্ট চিকিৎসার জন্য ভারতে যান রেবতী। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর কলকাতার একটি হোটেলে ওঠেন।

ভবেশ সরকার স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভিসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন। পরিকল্পনা ছিল, ভিসা পেলে তিনি গিয়ে দুজন একসঙ্গে দেশে ফিরবেন। কিন্তু তার আগেই আগুনে পুড়ে মারা যান রেবতী।

তিনি আরও জানান, তাদের দুই ছেলেমেয়ে ভারতে রয়েছেন। পারিবারিক সিদ্ধান্তে আজ দুপুর ২টার দিকে কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে রেবতীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, ‘কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাজুর মরদেহ বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে আজ দুপুরে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। আর ভারতে রেবতীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বলে শুনেছি।’

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ভারতের কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে দুজন সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার আর বাকি চারজন কুষ্টিয়া জেলার।

Most Popular