Monday, August 17, 2026
Homeখেলাহাসান মাহমুদদের কীর্তিতে গর্বিত সাবেক কোচ ডোনাল্ড

হাসান মাহমুদদের কীর্তিতে গর্বিত সাবেক কোচ ডোনাল্ড

বাংলাদেশ দল দুরন্ত পেস আক্রমণ নিয়েই বিশ্ব ক্রিকেটে এখন আলোচনায়। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়া জয় পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। এই অবিস্মরণীয় জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ‘যার শুরুর সময়ে পথনির্দেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রোটিয়া কিংবদন্তি পেসার অ্যালান ডোনাল্ড। সাম্প্রতিক সাফল্য দেখে দূর থেকে ভীষণ গর্বিত তিনি।

বাংলাদেশ দলের আজকের পেস বিভাগের পেছনের অন্যতম কারিগর বলা হয় ডোনাল্ডকে। ২০২৩ বিশ্বকাপের পরপরই পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি। তবে কোচের পদে না থাকলেও তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন ডোনাল্ড। পেসাররাও ডোনাল্ডের কাছ থেকে নিজেকে ঋদ্ধ করতে থাকতেন মুখিয়ে।

সোজা কথা হলো, পেশাদার সম্পর্ক ফুরিয়ে গেলেও দ্বার কখনো বন্ধ করেননি দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে একসময় দুনিয়া মাতানো পেসার।

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে বাংলাদেশ হারিয়ে দেওয়ার খবর পেয়ে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকব্লগকে ডোনাল্ড বলেন, ‘দল হিসেবে পারফরম্যান্সটা সত্যি দুর্দান্ত ছিল, বিশেষ করে বোলিংয়ে। হাসান মাহমুদ অসাধারণ ফর্মে থেকে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। সঙ্গে তাসকিন, ইবাদত আর স্পিনাররা তো তাদের কাজটা ঠিকঠাক করে গেছে।’

‘হাসানের জন্য সত্যিই ভীষণ ভালো লাগছে। কেন্টে (ইংলিশ কাউন্টি দল) খেলাটা তার জন্য বড় একটা সুযোগ ছিল। গতিশীল বোলার হিসেবে নিজেকে চেনা ও ম্যাচ বোঝার জন্য কাউন্টি ক্রিকেটের চেয়ে সেরা মঞ্চ আর হতে পারে না। আমি জানি তাকে আরও পথ যেতে হবে, আর শরীফুলও তো কেন্টে যোগ দিচ্ছে।’

ওটিস গিবসনের পর পেস বোলিং কোচ হিসেবে ডোনাল্ড বাংলাদেশের ক্রিকেটে এনেছিলেন নতুন স্রোত। নিজের গর্বের কথা জানিয়ে এরপরে দায়িত্ব পালন করা শন টেইটকেও কৃতিত্ব দিলেন তিনি, ‘একজন সাবেক কোচ হিসেবে সত্যিই গর্ববোধ করছি। শন টেটেরও এতে বড় অবদান আছে। তবে গত পাঁচ বছরে এই তরুণরা যেভাবে নিজেদের গড়ে তুলেছে, তা অবিশ্বাস্য।’

‘তারা নিজেদের যেভাবে বদলে ফেলেছে, সে মানসিকতা প্রশংসনীয়। পিছিয়ে না গিয়ে নিজের ওপর ভরসা রাখা আর লড়াই করার যে তাড়না তারা দেখিয়েছে, তা সত্যি দেখার মতো।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকায় খবর রাখেন নিয়মিত। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে খারাপ করার পরও দলের ঘুরে দাঁড়ানো বেশি মন কেড়েছে ডোনাল্ডের, ‘মূল ম্যাচের আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে তারা মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোটা সহজ ছিল না। ওই দুঃস্বপ্ন মাথায় নিয়ে টেস্ট খেলতে নেমে এমন প্রত্যাবর্তন—এককথায় অসাধারণ!’

‘অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে হারিয়ে উপযুক্ত জবাব দেওয়া গেছে। সিরিজের আগে নিশ্চয়ই অনেকেই বাংলাদেশকে নিয়ে সংশয়ে ছিল। কিন্তু দেখা গেল অজিরা পুরোপুরি ব্যাকফুটে। দারুণ একটা ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া।’

অস্ট্রেলিয়াকে বিধ্বস্ত করে দিতে বাংলাদেশ দল ব্যাটিংয়ে ছিল দুরন্ত। বাংলাদেশের ব্যাটারদেরও প্রশংসা করেন ডোনাল্ড, ‘ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দারুণ আক্রমণাত্মক আর সাবলীল ছিল। সব মিলিয়ে এটি এমন এক দলীয় পারফরম্যান্স, যা নিয়ে অনায়াসে গর্ব করা যায়।’

তাঁর মতে, ‘বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সেরা জয়গুলোর একটি এটি। তারা পাকিস্তানে গিয়ে সিরিজ জিতেছে, ঘরের মাঠেও হারিয়েছে। এখন অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার সুবর্ণ সুযোগ সামনে। সম্ভাবনা প্রচুর, তবে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।’

 

Most Popular