রক্ষণাত্মক মানসিকতা ও ভুল সময়ে ভুল খেলোয়াড় বদলের জন্য কোচ থমাস টুখেলের কড়া সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক খেলোয়াড়েরা। বিবিসিতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া এই সাবেকরা বলছেন, টুখেলের খেলোয়াড় বদলের ধরণ দেখেই জয়ের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন কেইন-বেলিংহামরা। এমনকি হারের ব্যবধানটা আরও অনেক বড় হতে পারত বলেও মনে করছেন তারা।
৫৫ মিনিটের মাথায় ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নিয়েছিলেন অ্যান্থনি গর্ডন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে হাইড্রেশন বিরতির সময় গর্ডনকে উঠিয়ে নেন টুখেল। শেষ ২০ মিনিটে মাটি কামড়ে ডিফেন্স করার জন্য আরও তিন ডিফেন্ডার এজরি কনসা, নিকো ও’রেইলি ও ড্যান বার্নকেও নামান তিনি।
আর্জেন্টিনার মতো চ্যাম্পিয়ন মানসিকতার দলের বিপক্ষে মাত্র এক গোলে এগিয়ে থেকেই এতটা রক্ষণশীল হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা মানতে পারেননি সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড ওয়েইন রুনি, ‘আপনি যদি আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হন, এবং ১-০ তে এগিয়ে থাকা অবস্থায় কোচকে এমন সব বদল করতে দেখেন, ওখানেই আপনার জয়ের বিশ্বাস হারিয়ে যাবে। এরপর আপনি ভাবতে শুরু করবেন, এত সময় ধরে আমাদের রক্ষণ সামলে খেলে যেতে হবে! কীভাবে আমরা এই সময়টা পার করব’?
দ্বিতীয় গোলের জন্য না ঝাঁপানোকে টুখেলের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে দেখছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি রুনি, ‘এক গোলে এগিয়ে থেকেই আপনি প্রতিপক্ষের কাছে বল ছেড়ে দিতে পারেন না। দ্বিতীয় গোল করার ইচ্ছা একপ্রকার আত্মসমর্পণ করেছে ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনা ওই মুহূর্তে খেলায় ফেরার চাপে ছিল। আপনি অবশ্যই চাইবেন ম্যাচে আরও এগিয়ে যেতে। আর্জেন্টাইনদের মতো ফুটবলারদের যদি আপনি আপনার বক্সের আশেপাশে জায়গা করে দেন, ওরা আগে বা পরে ঠিকই গোল করবে’।
২০২০ ও ২০২৪ সালের ইউরো ফাইনালেও এমন রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন সাবেক ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। দলটির সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট বলছেন, টুখেল যেন সাউথগেটের সেই দিনগুলোকেই ফিরিয়ে এনেছেন, ‘সাউথগেট নিশ্চয়ই বাসায় বসে খেলাটা দেখেছেন। বড় ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও এমন খোলসবন্দী হয়ে যাওয়ার কারণে তাকে অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। এই কোচের অধীনেও আমি খেলার ধরণের কোনো বদল দেখতে পাচ্ছি না। আমার মনে হয় না টুখেল তার নিজের দলের উপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পেরেছে। আর্জেন্টিনাকে আরও আক্রমণ করা যেতে পারে, এই বিশ্বাসই তার ছিল না’।
বিবিসিতে ধারাভাষ্য দেয়া আরেক সাবেক ইংলিশ কিংবদন্তি অ্যালান শিয়ারার বলেছেন, আর্জেন্টিনাকে মেক্সিকো কিংবা নরওয়ের সাথে গুলিয়ে ফেলার ভুল করেছেন টুখেল, ‘মেক্সিকো কিংবা নরওয়ের সাথে আপনি দাঁতে দাঁত চেপে টিকে থেকে ম্যাচ বের করে আনতে পারবেন। বল পায়ে আর্জেন্টিনার যে দক্ষতা, মাঠে তাদের শরীরী ভাষা ও প্রতিপক্ষকে দুমড়ে মুচড়ে দেয়ার মানসিকতা- কোনোটাই সম্ভবত ওই দলগুলোর ছিল না। সে আশা করেছিল আর্জেন্টিনার সাথেও একইভাবে রক্ষণ সামলে পার করে দিতে পারবে। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে’।
আর্জেন্টিনা সমতাসূচক গোল পেয়ে যাওয়ার পরই ইংল্যান্ড খেলা থেকে ছিটকে গেছে বলে মনে করেন এই ইংলিশ কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড, ‘মেক্সিকো ম্যাচের পর আমরা তার প্রশংসা করেছি। এখন সম্ভবত উল্টোটা করতে হবে। খেলায় কি আরেকটু গতি বাড়ানো যেতো কি না? আর্জেন্টিনার প্রথম গোলের পরেই তারা শারীরিক ও মানসিক দুই দিকেই ছিটকে গেছে’।
আরেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন ম্যাচ শেষে এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, আগের দিন স্পেনের খেলা দেখে ইংল্যান্ডের শেখা উচিত ছিলো এগিয়ে থাকা অবস্থায় কীভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে হয়, ‘গত রাতে ১-০ তে এগিয়ে থাকা অবস্থায় স্পেন কীভাবে খেলেছে সেটা দেখুন। ওটাকে বলে সাহসিকতা। আর ইংল্যান্ড ১-০ তে এগিয়ে থাকা অবস্থায় কীভাবে খেলেছে সেটাও দেখুন। আমি নিঃসন্দেহ যে আর্জেন্টিনার থেকে আমরা ভালো দল। কিন্তু এই ম্যাচ হারা আমাদের প্রাপ্য। এমনকি ব্যবধানটা হয়তো ৪-১ ও হতে পারতো’।
