তেমন কোনো প্রভাব রাখতে না পারলেও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে স্পেনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে রাখলেন রবার্তো মার্তিনেজ। আগের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে যোগ করা সময়ে গোল করে দলকে জেতানো গনসালো রামোসকে খেলালেনই না তিনি। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট খেলানো এবং রামোসকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার এমন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিলেন পর্তুগালের কোচ।
সোমবার রাতে ডালাসে শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেন বদলি নামা মিকেল মেরিনো। গোটা ম্যাচে মাঠে থেকে মাত্র ১৯ বার বল স্পর্শ করতে পারেন রোনালদো।
৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার পড়তি ফর্ম এবং তাকে ম্যাচের পর ম্যাচ খেলানো নিয়ে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। চলতি বিশ্বকাপেও এই প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে বহুবার। আগের ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করার পর রোনালদোকে ৮০তম মিনিটে তুলে নিয়েছিলেন মার্তিনেজ। তবে স্পেনের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পরও নিজের পুরোনো যুক্তিতেই অটল থেকেছেন এই স্প্যানিশ কোচ।
রোনালদোকে শেষ বাঁশি পর্যন্ত মাঠে রাখার কারণ জানিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘যখন দলের কথা ভাবতে হচ্ছে এবং দলের জন্য একটি গোল দরকার, তখন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে তুলে নিতে পারেন না। সে কোনো সমস্যা ছাড়াই ৯০ মিনিট খেলতে পারে।’
পর্তুগালের বিদায়ী কোচের মতে, গোল করার জন্য রোনালদোর বিকল্প ভাবা অসম্ভব, ‘সে প্রভাববিস্তারকারী ফুটবলার। মাঠে তার উপস্থিতিতেই অনেক কিছু হয়। তার কারণে জায়গা তৈরি হয়, ডেডবল পরিস্থিতিতে বা বক্সের ভেতরে যেকোনো পরিস্থিতিতে তাকে বদলি করার কোনো মানেই হয় না।’
ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে গোলটি হজম করে পর্তুগাল। এর আগেই নিয়মানুযায়ী পাঁচটি বদলি করে ফেলায় রোনালদোকে উঠিয়ে মার্তিনেজের সামনে নতুন কাউকে নামানোর কোনো সুযোগও ছিল না।
রামোসকে না খেলানোর বিষয়ে এই কোচের ব্যাখ্যা, খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ষষ্ঠ বদলি হিসেবে হয়তো তাকে মাঠে নামাতেন, ‘অতিরিক্ত সময়ে হয়তো গনসালো রামোসকে ব্যবহার করাটা যুক্তিযুক্ত হতো। কিন্তু আমাদের খেলার কাঠামোটা ধরে রাখতে হতো। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ৯০ মিনিটের মধ্যে তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না।’
এই ম্যাচটি দিয়ে শেষ হয়েছে পর্তুগালের কোচ হিসেবে মার্তিনেজের মেয়াদ। বিশ্বকাপের আগেই তিনি বলেছিলেন, মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইচ্ছে তার নেই। শুধু তা-ই নয়, স্পেনের বিপক্ষে হারটি হয়ে থাকছে বিশ্বকাপের মঞ্চে রোনালদোরও শেষ ম্যাচ। ফলে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বাদ অচেনাই থেকে গেল ফুটবলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার।
