ম্যাচ শুরুর আগে হাত দিয়ে ‘বর্ণবাদী অঙ্গভঙ্গি’ করার অভিযোগে এক ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিকে এই বিশ্বকাপের সকল দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার দাবি উঠেছে। গতকাল জার্মানি-কুরাসাও ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ান রেফারি শন ইভানসকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ফেয়ার নেটওয়ার্ক নামে এক সংস্থার পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়েছে। সংস্থাটি মূলত আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে কোনো ধরণের বর্ণবাদী বা বৈষম্যমূলক স্লোগান কিংবা পতাকা ব্যবহার করা হচ্ছে কি না সে বিষয়টি তদারকি করে থাকে। দীর্ঘদিন যাবত তারা এ বিষয়ে ফিফা এবং উয়েফার অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের বরাতে জানা গেছে, বিতর্কের সূত্রপাত জার্মানি-কুরাসাও ম্যাচের আগে। পর্দায় যখন সব ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিদের পরিচয় দেখানো হচ্ছিল, তখন দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ইভানস তার ডান হাতের দুই আঙুল দিয়ে একটি গোল ‘ওকে’ চিহ্ন দেখান। এই অঙ্গভঙ্গি করা নিয়েই আপত্তি জানিয়েছে ফেয়ার নেটওয়ার্ক। তারা বলছে, এটি একটি বর্ণবাদী অঙ্গভঙ্গি। এক ‘নাৎসি অঙ্গভঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘আমাদের বিশেষজ্ঞদের মত হচ্ছে এটি স্পষ্টতই একটি বর্ণবাদী আচরণ। ডান হাতে গোল করে এই ওকে চিহ্নটি দক্ষিণপন্থী দেশগুলোতে ব্যবহার করা হয়, শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিদের অধিক ক্ষমতাশালী হিসেবে দেখানোর জন্য। ফিফার উচিত হবে তাৎক্ষণিকভাবে এই রেফারিকে চলমান বিশ্বকাপ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া’।
এর আগে ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক ভিত্তিক সংস্থা ‘অ্যান্টি ডিফেমেশন লিগ’ও এই অঙ্গভঙ্গিকে ঘৃণা ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। তবে ইভানস ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে এই অঙ্গভঙ্গি করেছেন সেটি নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ‘সার্কেল গেম’ নামে একটি বাচ্চাদের খেলায় এরকম হাত দিয়ে আকৃতি করার প্রচলন রয়েছে। ‘অ্যান্টি ডিফেমেশন লিগ’ এর পরিচালক ওরেন সেগাল এই প্রসঙ্গে বলেছেন, এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেয়া আবশ্যক।
তবে ইভানসের কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপট নিয়ে ফেয়ার নেটওয়ার্কের কোনো সংশয় নেই। সংস্থাটি বলেছে, ‘একজন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি যখন জানেন তাকে ক্যামেরায় পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই, তাও আবার বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরে এই আচরণের অর্থ কী? এই ঘটনার পর যে দুটো ম্যাচ হয়েছে, সেগুলোতে ক্যামেরার সামনে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিদের আর পরিচয়ই করানো হয়নি’।
ফিফা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার পেশাদার রেফারিদের সংগঠন এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মাঠের রেফারিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য এবারের বিশ্বকাপে ৩০ জন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি নিয়োগ করেছে ফিফা।
