Thursday, October 1, 2026
Homeবিদেশ‘জীবনসঙ্গী’ খুঁজতে সিঙ্গাপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন সেবা

‘জীবনসঙ্গী’ খুঁজতে সিঙ্গাপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন সেবা

সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জীবনসঙ্গী খোঁজার ব্যবস্থা সহজ করতে নতুন একটি সেবা চালু হচ্ছে সিঙ্গাপুরে। দেশটির সরকারি প্রযুক্তি সংস্থা ‘গভটেক’ নাগরিকদের জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে যাচাই করে সিঙ্গেল বা অবিবাহিত কর্মকর্তাদের এই সুযোগ দিচ্ছে।

গভটেকের ওয়েবসাইটের বরাতে দ্য স্ট্রেইটস টাইমস জানায়, ইতোমধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে সরকার, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফার্স্টডেট’। প্রকল্পের আওতায় অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী বা পার্টনার খোঁজার ব্যবস্থা থাকছে।

দেশটির সিভিল সার্ভিসের সব সেক্টরের কর্মকর্তারা পরীক্ষামূলকভাবে এই ডেটিং অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন।

জানা গেছে, উপযুক্ত সঙ্গী পেতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্র ‘সিংপাস’ দিয়ে সাইন-ইন করতে হবে এবং তাদের আগ্রহ, অভ্যাস, মূল্যবোধ ও পছন্দ-অপছন্দ (যেমন ধর্ম, বয়স ও অন্য কোনো শর্ত) সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদনের শেষ সময় ৫ অক্টোবর।

অবিবাহিতদের পাশাপাশি বিধবা, বিপত্নীক ও বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে এমন কর্মকর্তারাও আবেদন করতে পারবেন।

এই সেবায় যে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে, সেটির মাধ্যমে প্রতি ম্যাচমেকিংয়ে ব্যবহারকারী একজন সঙ্গীর খোঁজ পাবেন, যার সঙ্গে ম্যাচিং স্কোর, বিবরণ ও একটি ব্যক্তিগত বার্তা থাকবে। তবে প্রতিবারেই যে সঙ্গী মিলে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

২০১২ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়া এই অ্যালগরিদমের মূল ভিত্তি হলো, একজন মানুষ যে বৈশিষ্ট্যের মানুষ পছন্দ করেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত মানুষটিকে খুঁজে নেওয়া।

গভটেকের এই প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য সঙ্গী বা ‘কাপল’ হিসেবে মিলে যাওয়া দুই ব্যবহারকারীর কাছে এসএমএস যাবে এবং তারা এতে সম্মতি জানাতে ৩ দিন সময় পাবেন। ব্যবহারকারীর প্রোফাইল শুধু তার পছন্দের সঙ্গে মিলে যাওয়া সম্ভাব্য সঙ্গীই দেখতে পাবেন এবং দুজনের সম্মতিতে যোগাযোগের বিস্তারিত জানানো হবে।

প্রতিটি ম্যাচের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের একটি প্রতিক্রিয়া জরিপ পূরণ করতে হবে, যেখানে তাদের সরাসরি দেখা হয়েছে কি না সে বিষয়েও প্রশ্ন থাকবে।

সার্ভিসের শর্তাবলীর মধ্যে কিছু সুবিধাও রয়েছে, যেমন দুজনই আগে খাননি এমন বিশেষ কোনো খাবার একসঙ্গে খেতে গেলে বিশেষ ছাড়ও পেতে পারেন।

ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময় তাদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে তাদের তথ্য মুছে ফেলার অনুরোধ জানাতে পারেন।

সিঙ্গাপুরে বিয়ের বয়স পিছিয়ে যাওয়া বা অবিবাহিত থাকার প্রবণতা বাড়তে থাকায় এমন উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।

এর আগে জন্মহার হ্রাস ঠেকাতে সরকার বাবা-মায়ের জন্য আর্থিক সহায়তা ও ছুটির সুযোগও বাড়িয়েছিল।

২০১৯ সালে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স ও সাইকোলজির শিক্ষার্থীরা একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিল, যেটি শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী খোঁজার কাজে ব্যবহার করা যায়। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনা খরচে
বিশ্বের ১০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।

অবিবাহিতদের এক প্ল্যাটফর্মে আনতে এর আগেও উদ্যোগ নিয়েছিল সিঙ্গাপুর সরকার।

১৯৮৪ সালে গ্র্যাজুয়েট অবিবাহিতদের নৈশভোজ, নাচ ও বিদেশ ভ্রমণের মাধ্যমে আলাপ-পরিচয়ের সুযোগ করে দিতে ‘সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ইউনিট’ (এসডিইউ) গঠন করা হয়েছিল। শিক্ষিত নারীদের মধ্যে অবিবাহিত থাকার প্রবণতা বাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে ডেটিং অ্যাপের আধিপত্য বাড়ায় সম্প্রতি সরাসরি ম্যাচমেকিং থেকে সরে আসে এসডিইউ।

কম জন্মহার থাকা অন্যান্য এশিয়ার আরও কিছু দেশেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৪ সালে নিজস্ব ডেটিং অ্যাপ চালু করে টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থানীয় সরকারগুলো ডেটিং উৎসবের আয়োজন করার পাশাপাশি বিয়ের জন্য আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে আসছে।

Most Popular