সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্কর।
অন্যদিকে যথেষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে খালাস দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্তদের সবাই বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত চারজনসহ আট আসামিই আদালতে হাজির ছিলেন। মামলাটি ঘিরে সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি আদালতে প্রবেশের সময় তল্লাশিও জোরদার করা হয়।
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে। ঘটনার রাতেই ওই তরুণীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ও দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
তদন্তে আরও দুজনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে মোট আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
গত বছর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার রায় দেন আদালত।
