Saturday, July 11, 2026
Homeবাংলাদেশউদ্ধারের দায়িত্ব যাদের, তারাই যখন ঝুঁকিতে

উদ্ধারের দায়িত্ব যাদের, তারাই যখন ঝুঁকিতে

পরিকল্পনার চেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে ঢাকা। আর এই অবস্থা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। জলাভূমি ভরাট করা হয়েছে; নিচু জমিতে গড়ে উঠেছে স্থাপনা; আর নির্মাণ করা হয়েছে এমন সব বহুতল ভবন, যেগুলো বড় ধরনের ভূমিকম্প সহ্য করতে না-ও পারে। ছয় পর্বের ধারাবাহিকের চতুর্থ পর্বে স্টার খতিয়ে দেখেছে, বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানলে নগরীর হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সচল থাকার জন্য কতটা প্রস্তুত।

দিনটি ছিল ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স বিলকিস আক্তার তখন দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগটি ১৭ তলা ভবনের দোতলায় অবস্থিত। শুক্রবার হওয়ায় দায়িত্বরত নার্স হিসেবে তিনি একাই ছিলেন। হঠাৎ পুরো ভবন প্রচণ্ড কাঁপতে শুরু করে।

তিনি বলেন, ‘আমি নড়িনি। তবে আট রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে দুজন ছাড়া সবাই ভয়ে নিচে ছুটে যান। অন্য ওয়ার্ড থেকে আমার দুই সহকর্মী এসেছিলেন। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম।’

এটি বিলকিসের স্মরণে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের স্মৃতি।

রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল পাঁচ দশমিক সাত। এতে দুই শিশুসহ অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছিল। আহত হন এক হাজারের বেশি মানুষ।

ওই ভূমিকম্প এ সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

সে সময় শিশু হৃদরোগ বিভাগে সন্তানকে নিয়ে ছিলেন মুন্নী। তিনি বলেন, ‘আমরা একেবারেই অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছিলাম। আমি আমার ছয় বছরের মেয়েকে কোলে নিয়ে ওয়ার্ডের মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, আমরা মারা যাচ্ছি।’

তার বর্ণনায় উঠে এসেছে, ভূমিকম্পে ঢাকা ও আশেপাশের জেলাগুলো কেঁপে ওঠার সময় রোগী, চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের কতটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

হাসপাতাল ভবনটি ২০২৩ সালের শুরুর দিকেই কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও ভবনটিতে কার্যক্রম চলছে। রাজধানীর আরও ৪১টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেও একইভাবে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের ৪২টি ভবনকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে তিন মাসের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার আড়াই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। অথচ এখন পর্যন্ত ভাঙা হয়েছে মাত্র দুটি ভবন।

বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও থানা সচল থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশিত। কারণ এসব স্থাপনা উদ্ধার কার্যক্রম, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ত্রাণ তৎপরতার মূল ভিত্তি।

তবে এসব স্থাপনার অনেকগুলোই কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে মাঝারি থেকে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর দেশের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো দ্রুত মূল্যায়ন করে রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী করা না হলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিপর্যয় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত, স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত ও বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকায় জরুরি জনসেবা অচল করে দিতে পারে।

আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের সাবেক পরিচালক আবদুল লতিফ হেলালী বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশন, থানা, বিদ্যুৎ স্থাপনা ও টেলিযোগাযোগ ভবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় রাজউক ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের তিন হাজার ২৫২টি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনের র‍্যাপিড ভিজুয়াল অ্যাসেসমেন্ট বা দ্রুত দৃশ্যমান মূল্যায়ন করে।

ওই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ৫৭৯টি ভবনের প্রাথমিক প্রকৌশল মূল্যায়ন ও পরে ২২৯টির বিস্তারিত প্রকৌশল মূল্যায়ন করা হয়।

এর মধ্যে ৪২টি ভবন ভেঙে ফেলা ও ১৮৭টি ভবন রেট্রোফিটিংয়ের সুপারিশ করা হয়।

হেলালী বলেন, ‘থানাগুলোকে শুধু প্রাথমিক যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছিল। প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে থাকায় আমরা বিস্তারিত মূল্যায়ন করতে পারিনি।’

এ ধরনের স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি।

সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৪২টি ভবনের অধিকাংশই আটটি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। আর তিনটি ভবন সাবেক পিজি হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত।

রাজউক ২০২৩ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে সাত দিনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করতে ও তিন মাসের মধ্যে সেগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়।

তবে এখন পর্যন্ত পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীর ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের একটি ভবনসহ মাত্র দুটি ভবন ভাঙা হয়েছে।

২১ নভেম্বরের ভূমিকম্প বহু স্থাপনার ঝুঁকির পাশাপাশি ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যর্থতার বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসে।

রাজউক ওই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০০টি ভবন শনাক্ত করে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়টি তদারক করে। রাজউকের এক প্রতিবেদন অনুসারে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৪২টি ভবনের অনেকগুলো এই অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

ভূমিকম্পের পর যোগাযোগ করা হলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদী বলেন, তালিকাভুক্ত ভবনগুলোর অনেকগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ও সেগুলোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটির।

‘সরকারের নির্দেশনা পেলে আমরা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব,’ যোগ করেন তিনি। জাহেদী জানান, গত বছরের ভূমিকম্পের পর একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে থাকা ভবনগুলো পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবে।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, মূল্যায়নের পর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৪২টি ভবনের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল।

অনেক মালিক আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে বলেছেন, ভবন ভেঙে ফেলা হলে নতুন করে নির্মাণের মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। এ কারণে অগ্রগতি ধীর হয়েছে।

তিনি জানান, কিছু ভবনে এখনো স্কুল বা বাজারের কার্যক্রম চলছে। আবার কিছু বাজারের মালিক আদালতের আদেশে অতিরিক্ত সময় পেয়েছেন।

‘এই সমস্যা এককভাবে সমাধান করা রাজউকের পক্ষে সম্ভব না।’

আশরাফুল মনে করেন, প্রতিটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ক্ষেত্রে যথাযথ করণীয় নির্ধারণে রাজউক, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় উদ্যোগ প্রয়োজন।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, সারা দেশে ৫৩৭টি ফায়ার স্টেশনের মধ্যে ১১৯টি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। এর অনেকগুলো পাকিস্তান আমলে নির্মিত।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, ঢাকায় ১৮টি ফায়ার স্টেশনে প্রায় ৭০০ জন কর্মী রয়েছেন।

তিনি জানান, পোস্তগোলা, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের পুরোনো ফায়ার স্টেশনগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বারিধারা, সূত্রাপুর, পল্লবী, হাজারীবাগ, কল্যাণপুর ও উত্তরায় নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে।

কাজী আলাউদ্দিন রোডের সদর দপ্তর এবং কুর্মিটোলা ও তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন রেট্রোফিটিং করা হয়েছে। আরও কয়েকটি পুরোনো স্টেশন সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে।

সদরঘাট ও মিরপুর-১০ ফায়ার স্টেশনেও নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, জানান তিনি।

‘ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় ফায়ার সার্ভিস তাদের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো মিরপুরের নতুন জরুরি পরিচালন কেন্দ্রে (ইওসি) স্থানান্তর করেছে।’

জাহেদ বলেন, নতুন ভূমিকম্প-সহনশীল বহুতল সদর দপ্তরের নির্মাণকাজও চলছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স পূর্বাচলে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।

‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত ও ঝুঁকি প্রশমনে ব্যবস্থা নেওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া,’ যোগ করেন তিনি।

জাহেদ বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে জরুরি পরিকল্পনার আওতায় সারা দেশের আরও ১২০টি ফায়ার স্টেশনের কর্মীদের উদ্ধার সরঞ্জামসহ ঢাকায় মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবকেরাও কাজ করবেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ভূমিকম্পের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশন, স্কুল ও থানা বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল ধসে পড়লে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া যাবে না। এমনকি ভবন দাঁড়িয়ে থাকলেও অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেগুলো স্বাস্থ্যসেবার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।’

জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রায়ই ব্যবহৃত স্কুল ও কলেজ ব্যবহৃত হয়। সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে, যোগ করেন তিনি।

হাসপাতালগুলোর ঝুঁকি নিয়ে সমন্বিত মূল্যায়ন ও ঝুঁকি প্রশমনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আদিল বলেন, অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালও ঝুঁকিতে রয়েছে।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ঝুঁকি মূল্যায়নের পরই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর রেট্রোফিটিং শুরু করা উচিত।

‘রেট্রোফিট নকশা তৈরির আগে আমাদের দ্রুত একটি মৌলিক যাচাই দরকার। কম খরচের র‍্যাপিড ভিজুয়াল স্ক্রিনিং (আরভিএস) পদ্ধতিতে এটি করা যেতে পারে,’ পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সব ভবনের রেট্রোফিটিংয়ের প্রয়োজন হবে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আনসারী বলেন, প্রকৌশল দক্ষতার ঘাটতি থাকা স্কুলগুলোকে কম খরচে ঝুঁকি যাচাই করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী প্রকৌশলীরা সহায়তা করতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘অন্তত বাস্তবায়নের দিক-নির্দেশনার জন্য সরকারি নির্দেশিকা প্রয়োজন। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, ধাপে ধাপে এগোনোর মতো সময় আদৌ আমাদের আছে কি না? পরবর্তী ভূমিকম্প কখন আঘাত হানবে, তা কেউ জানে না।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নথিভুক্ত ভূমিকম্পের ইতিহাস মাত্র প্রায় ২০০ বছরের। ফলে ভবিষ্যতের ভূমিকম্প নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।

‘এ কারণেই দ্রুত ঝুঁকি যাচাইয়ের মাধ্যমে রেট্রোফিটিং শুরু করতে হবে। একইসঙ্গে মাটি সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলোরও সমাধান করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এখনো সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

Most Popular