Sunday, July 5, 2026
Homeখেলাইতিহাস গড়ার স্বপ্ন মেক্সিকোর, কঠিন পরীক্ষার মুখে ইংল্যান্ড

ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন মেক্সিকোর, কঠিন পরীক্ষার মুখে ইংল্যান্ড

স্বাগতিক মেক্সিকোর সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ, আর ইংল্যান্ডের জন্য বিশ্বকাপে টিকে থাকার আরেকটি কঠিন পরীক্ষা। বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও অ্যাজতেকায় শেষ ষোলোর মহারণে মুখোমুখি হবে দুই দল।

ম্যাচটি ঘিরে শুরু থেকেই একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামের বৈরী আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এমনকি আবহাওয়ার কারণে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের ছয় ঘণ্টা আগে শুরু করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছিল।

এছাড়া মেক্সিকোর সমর্থকদের উন্মাদনাও ইংল্যান্ডের জন্য বাড়তি চিন্তার কারণ। মঙ্গলবার ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেক্সিকোর ম্যাচের আগের রাতে প্রতিপক্ষ দলের হোটেলের বাইরে আতশবাজি ও উচ্চ শব্দ করে উৎসব করেছিলেন সমর্থকেরা। একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকলেও ইংল্যান্ড শিবির বিষয়টি নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন নয়।

আরেকটি পরিসংখ্যানও ইংল্যান্ডের জন্য সতর্কবার্তা। ১৯৬৬ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এস্তাদিও অ্যাজতেকায় মেক্সিকোর রেকর্ড ৭০ জয়, ২ ড্র ও মাত্র ১৭ হার।

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল বলেন, ‘মেক্সিকোর বিপক্ষে অ্যাজতেকায় খেলা সম্ভবত ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর এবং রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলোর একটি। তবে আমাদের সামনে অনেক বাধা অপেক্ষা করছে। উচ্চতা অবশ্যই বড় একটি অসুবিধা। মাত্র চার দিনে এর সঙ্গে শারীরিকভাবে মানিয়ে নেওয়া অসম্ভব।’

আটলান্টায় সর্বশেষ ম্যাচে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে অন্তত কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠাই থ্রি লায়ন্সদের লক্ষ্য।

অন্যদিকে, মেক্সিকোও ইতিহাস গড়তে মুখিয়ে আছে। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে মাত্র দুইবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছিল তারা। এবার স্বাগতিক হিসেবে সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করতে চায় এল ত্রি।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৮-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসে রয়েছে মেক্সিকো। নিজেদের পরিচিত পরিবেশই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন মিডফিল্ডার আলভারো ফিদালগো, ‘এই স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ খেলা প্রত্যেকের স্বপ্ন। সম্ভবত খেলোয়াড় হিসেবে এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচগুলোর একটি। আমরা জানি, তাদের দলে অসাধারণ খেলোয়াড় আছে। বিশেষ করে তাদের মাঝমাঠ খুবই শক্তিশালী। প্রতিটি পজিশনেই তারা দুর্দান্ত।’

মেক্সিকোর রক্ষণকে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে নিয়ে। এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে পাঁচ গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার। গোলদাতার তালিকায় তিনি নরওয়ের এরলিং হলান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছেন। তালিকার শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে, দুজনেরই গোল সাতটি।

নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই যে আরও কঠিন হয়ে ওঠে, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন কেইন, ‘অবশ্যই আমাদের আরও উন্নতির জায়গা আছে। তবে এই পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যেকোনোভাবে জিতে পরের রাউন্ডে ওঠা। টুর্নামেন্টের এই সময়ে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়, আর আমরা সেটাই করেছি।’

ইংল্যান্ডের আরেক ভরসার নাম জুড বেলিংহাম। এবার বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে দুই গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন এই মিডফিল্ডার।

মেক্সিকোর দলে কেইনের মতো একক কোনো মহাতারকা না থাকলেও আক্রমণভাগে রয়েছে দারুণ ভারসাম্য। হুলিয়ান কুইনোনেস করেছেন তিন গোল ও একটি অ্যাসিস্ট, রাউল হিমেনেসের গোল দুটি, আর রবার্তো আলভারাদো করেছেন তিনটি অ্যাসিস্ট।

এদিকে ম্যাচের সময় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেক্সিকো কোচ হাভিয়ের আগিরে। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি রাতেই আয়োজনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
আগিরে বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল ম্যাচটি অন্য সময়ে হবে। আমি তখনই বলেছিলাম, এই পরিবর্তনে আমি খুশি নই। ম্যাচের এক দিন আগে এমন পরিবর্তন মোটেও সুবিধাজনক নয়। আমি শুধু এটুকুই বলেছিলাম।’

অন্যদিকে সম্ভাব্য উচ্চ শব্দের মধ্যেও নিশ্চিন্তে ঘুমানোর আশাই করছেন টুখেল, ‘আমরা ভালো একটি রাতের ঘুমেরই আশা করছি। ফিফা আমাদের হোটেলের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। যে সমস্যার অস্তিত্বই নেই, তা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। আমাদের প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখানো হয়েছে।’

এই ম্যাচের বিজয়ী আগামী ১১ জুলাই মায়ামি গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার-ফাইনালে ব্রাজিল অথবা নরওয়ের মুখোমুখি হবে।

 

Most Popular