ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হেডিংলিতে বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে অধিনায়ক বাবর আজমকে পাচ্ছে না পাকিস্তান। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সময় ডান হাতে পাওয়া আঘাত থেকে সেরে উঠেননি তিনি। চলতি মাসের শুরুর দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টেও ঠিক একই স্থানে আঘাত পেয়েছিলেন বাবর।
পাকিস্তান দলের কোচ সরফরাজ আহমেদ বাবরের না থাকার খবর নিশ্চিত করেন, ‘প্রথম টেস্টে অধিনায়ক বাবর আজমকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরিবর্তে দলকে নেতৃত্ব দেবেন সালমান আগা।’
কোচ জানান, বাবরের ডান হাতের মাঝের আঙুলে কোনো ফ্র্যাকচার বা হাড়ভাঙা ধরা পড়েনি। তাই তার অনুপস্থিতি আপাতত প্রথম টেস্টেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
সরফরাজ আরও বলেন, ‘চিকিৎসক দল বাবরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আঙুলে তার বেশ ব্যথা রয়েছে। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হতে এখনও কয়েক দিন বাকি আছে। আশা করা যায়, এর মধ্যেই তিনি ফিট হয়ে উঠবেন।’
বেকেনহামে আঘাত পাওয়ার পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন বাবর এবং ম্যাচের বাকি অংশে আর নামেননি। তখন থেকেই প্রথম টেস্টে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বাবরের অনুপস্থিতিতে সেই ম্যাচেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সালমান।
সিরিজের শুরুতেই বাবরকে হারানো সফরকারী দলের জন্য এক বড় ধাক্কা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ফর্মের ইঙ্গিত দিয়ে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হয়েছিলেন তিনি; সেখানে জোড়া হাফ সেঞ্চুরির পাশাপাশি দুর্দান্ত দুটি ছক্কায় শেষ টেস্ট জয়ে অবদান রাখেন। ওই সফরের ঠিক আগেই তাকে দলের অধিনায়ক নির্বাচিত করা হয়।
পাকিস্তান জাতীয় টেস্ট দলকে আগে কখনও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ না হলেও দলটির নেতৃত্বের মূল কাঠামোর সঙ্গে সালমান আগা বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্ত। তিনি তিন ফরম্যাটেই নিয়মিত খেলা গুটিপ্রয়েক ক্রিকেটারের একজন এবং বর্তমানে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটি তার জন্য ভালো যায়নি, যেখানে ৩ ইনিংসে মাত্র ২০ রান করেন তিনি।
কোচ জানান, বাবরের অনুপস্থিতি ব্যাটিং লাইনআপের শক্তি বজায় রাখা নিয়ে নির্বাচনসংক্রান্ত ভাবনায় ফেলেছে দলকে। টপ অর্ডারে শান মাসুদ এবং মিডল অর্ডারে সউদ শাকিলকে রাখা হলেও টেল-এন্ডারদের ব্যাটিং ঘাটতি কমাতে আমির জামালকে একাদশে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে এই পরীক্ষা চালানো হলেও জামাল ব্যাট ও বল কোনো বিভাগেই আলো ছড়াতে পারেননি।
ইনজুরির ধাক্কা থাকলেও ইংল্যান্ডের মাটিতে ভালো করার বিষয়ে আশাবাদী সরফরাজ। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচটি আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ব্যাট ও বলে যেসব জায়গায় কাজ করার প্রয়োজন ছিল, আমরা তা করেছি। বিশ্বাস করি, এখানে আমরা খুব ভালো করব।’
অন্যদিকে আঙুলের ফ্র্যাকচার থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছেন শান মাসুদ। গত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে জয়ডেন সিলসের বলে হাতে আঘাত পান তিনি। এর ফলে দ্বিতীয় টেস্ট এবং পরবর্তীতে বেকেনহামের প্রস্তুতি ম্যাচেও অনুপস্থিত ছিলেন এই ব্যাটার।
