আর্জেন্টিনার বুকে রীতিমতো কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল এবারের বিশ্বকাপে বিস্ময় জাগানো নবাগত কেপ ভার্দে। বারবার মোড় বদলের পর শেষমেশ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। উত্তেজনায় ঠাসা লড়াইয়ে ডিনি বোর্জেসের আত্মঘাতী গোলের সুবাদে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে টিকে রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে শেষ হওয়া ১২০ মিনিটের ম্যাচে ৩-২ গোলে জিতেছে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ১১১তম মিনিটে ডিফেন্ডার বোর্জেসের আত্মঘাতী গোল দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দেয়। এই গোলের মাধ্যমে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছেন তিনি, যদিও তাতে শেষ হয়েছে চলতি আসরে কেপ ভার্দের রূপকথার যাত্রা।
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির কর্নারে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হেড করার পর বল বোর্জেসের হাতে লেগে জালে জড়ায়। ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ফলে স্কোরলাইন ২-২ থেকে হয়ে পড়ে ৩-২। শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয় আর্জেন্টিনা। বাকি সময়ে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বীরত্বে টাইব্রেকারের আগেই ম্যাচের ফয়সালা হয়। আর এতেই ৩১ বছর বয়সী বোর্জেস বিব্রতকর কিন্তু নতুন কীর্তি গড়ে ফেলেছেন।
বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে এমন ম্যাচে এর আগে কখনও কোনো আত্মঘাতী গোল ফল নির্ধারণ করে দেয়নি। তবে এমন অর্জনের কথা নিশ্চয়ই বোর্জেস দ্রুত ভুলে যেতে চাইবেন। কারণ পুরো ম্যাচে তিনি দারুণ খেললেও দুর্ভাগ্যবশত তার হাতে লেগেই দিক পাল্টে বল গোললাইন অতিক্রম করায় জয়সূচক গোল পায় আর্জেন্টিনা।
চলতি বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড হয়েছে আগেই, বোর্জেসেরটি ১৪তম। এর আগে এক আসরে আগের সর্বোচ্চ ১২টি আত্মঘাতী গোল হয়েছিল ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। বড় পরিসরে ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবার ম্যাচ বেড়ে যাওয়ায় গোলের পাশাপাশি আত্মঘাতী গোলের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে।
শেষ বত্রিশের বাধা পেরিয়ে আর্জেন্টিনা নাম লিখিয়েছে শেষ ষোলোতে, যেখানে তাদের অপেক্ষায় আছে মিশর। এর আগে মিশর ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার শেষ বত্রিশের ম্যাচে আত্মঘাতী গোলের সংখ্যার নতুন রেকর্ড হয়। মিশরের ডিফেন্ডার মোহামেদ হেনি হেডে বল ক্লিয়ার করার চেষ্টায় নিজেদের জালেই পাঠান। শুধু তাই নয়, এবারের আসরে এটি তার দ্বিতীয় আত্মঘাতী গোল। প্রথমটি তিনি করেছিলেন গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে।
