প্রায় ১১ মাস কারাবন্দি থেকে সম্প্রতি জামিনে মুক্ত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা মিজানুর রহমান ওরফে মনির খান (৪৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পটুয়াখালী জেলা শাখার সদস্য ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
সম্প্রতি আইসিইউ বেডে তার হাতে হাতকড়া পরা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
তার স্ত্রী সালমা জাহান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মনির চলতি বছরের ৯ জুন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৪ জুন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
গত ২৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ৯টি মামলার সবকটিতেই তিনি জামিন পান বলে জানান সালমা।
মিজানুর রহমান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বাহালগাছিয়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুল খালেক খানের ছেলে। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
এছাড়া, তিনি সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতিও ছিলেন।
তার ভাগ্নে সিরাজ মুন্সী জানান, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে মনির খান ও তার স্ত্রী সালমা জাহানকে জুলাইয়ের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তার স্ত্রী সদর উপজেলার কালিকাপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সালমা জাহান ৩ মামলায় ৬ মাস কারাভোগের পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আইসিইউতে হাতকড়া পরা রোগীর ছবিটি তার স্বামীরই ছিল বলে নিশ্চিত করেন সালমা জাহান। তিনি বলেন, চিকিৎসকের কাছ থেকে অবস্থার অবনতির কথা জানার পর স্বজনদের অনুরোধে পুলিশ হাতকড়া খুলে দেয়।
নোট: এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মনির খানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এইচ এম সারোয়ার হোসেন জানিয়েছিলেন সব মামলায় তার জামিন হয়নি।
