Monday, August 17, 2026
Homeবাংলাদেশঅবিলম্বে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে হেফাজত নেতাদের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি সংগঠনটির

অবিলম্বে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে হেফাজত নেতাদের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি সংগঠনটির

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে অবিলম্বে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য ‘অপসারণে কড়া হুঁশিয়ারি’ দিয়েছে সংগঠনটি।

আজ সোমবার এক বিবৃতিতে হেফাজত জানায়, ‘জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্য স্থাপনকে শরিয়তের বিধানের চরম লঙ্ঘন এবং আলেমদের আত্মত্যাগের সঙ্গে এক ধরনের বৈপরীত্য ও উপহাস আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান।’

অবিলম্বে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে এসব ভাস্কর্য উচ্ছেদ ও অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসলামের স্পষ্ট বিধান বা শরিয়তের দৃষ্টিতে যেকোনো মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ। ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয় বা অবদান যত বড়ই হোক না কেন, শরিয়তের বিধানকে তোয়াক্কা না করে মনগড়া কিছু করার সুযোগ কারো নেই।’

‘যারা জীবনভর ইসলামের আকিদা, ঈমান ও ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষার লড়াইয়ে প্রাতঃস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের স্মৃতি রক্ষার অজুহাতে ভাস্কর্য বানিয়ে ইসলামি বিধানের চরম বরখেলাপ করা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। যে আলেম সমাজ অতীতে এই ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন ও কারানির্যাতন ভোগ করেছেন, আজ স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে তাদেরই অবয়বে ভাস্কর্য বানিয়ে অপমান করা হচ্ছে। এটি একটি চরম মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন বৈপরীত্য।’

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিপ্লব, বীর শহীদ ও আন্দোলনকারীদের মহান ত্যাগকে জাতি অবশ্যই আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে রাখবে। কিন্তু সেই স্মৃতিরক্ষাকে কোনোভাবেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামি মূল্যবোধের মুখোমুখি দাঁড় করানো যাবে না।

‘ভাস্কর্য নামক এই অশুভ সংস্কৃতি’ পরিহার করে ইতিহাস সংরক্ষণে হেফাজতের পক্ষ থেকে শরিয়তসম্মত দুটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো:

১. আন্দোলনের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে জাদুঘরে লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিলপত্র ও বিপ্লবী নথিগুলো সংরক্ষণ করে তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা।

২. ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে ও ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে নির্মম গণহত্যাসহ ইসলামের জন্য আলেম ও তৌহিদী জনতার ত্যাগ এবং ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের সত্য ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিদের কোনো ভাস্কর্য ছিল না; কিন্তু তাদের আদর্শ আজও বিশ্বজুড়ে আলো ছড়াচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার গড়িমসি না করে জুলাই জাদুঘর থেকে এই ভাস্কর্যগুলো অনতিবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যথায় আলেম সমাজ তাদের নীতি ও আকিদা রক্ষায় নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।’

Most Popular