নরওয়ে ম্যাচের পর প্রকাশ্যে দলের পারফরম্যান্সের সমালোচনা করেছিলেন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল। কোচের সেই সমালোচনা ভালোভাবে না নিয়ে আবার মন্তব্য করেছিলেন ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক জুড বেলিংহাম। তবে অধিনায়ক হ্যারি কেইন কোচের কথাকে নেতিবাচকভাবে না নিয়ে বলেছেন, অনুশীলনে দেখা ইংলিশ খেলোয়াড়দের সেরা রূপটা ম্যাচেও দেখতে চান বলে ওইরকম মন্তব্য করেছেন কোচ টুখেল।
কেইন আরও বলেছেন, আর্জেন্টিনার সাথে মহারণের আগে ইংলিশ খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও মনোযোগী রাখার জন্যই কড়া সমালোচনার পথ বেছে নিয়েছেন টুখেল।
নরওয়েকে ২-১ গোলে হারানোর পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কোচ থমাস টুখেল বলেছিলেন, ‘‘আমরা নিজেদের জন্য পরিস্থিতি খুব, খুব কঠিন করে তুলেছিলাম আজ। ফলাফল দারুণ, শেষ চারে যেতে পারার অনুভূতি দুর্দান্ত। কিন্তু আমি এমন পারফরম্যান্সে খুশি নই’। কোচের এমন প্রকাশ্য মন্তব্যের পর জোড়া গোল করা ইংলিশদের জয়ের নায়ক বেলিংহাম পাল্টা এক মন্তব্যে বলেছিলেন, ‘বোধহয় তিনি জানেন না এরকম কন্ডিশনে হালান্ড, সরলথ, নুসা ও ওডেগার্ডদের মতো ফুটবলারদের বিপক্ষে খেলতে কেমন লাগে’।
তবে অধিনায়ক হিসেবে এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় প্রশমিত করার চেষ্টা করেছেন কেইন। কোচের কথাকে সমালোচনা হিসেবে নয়, বরং মাঠে নিখুঁত পারফরম্যান্স করার তাগিদ হিসেবেই দেখছেন কেইন, ‘তিনি (টুখেল) যখন অনুশীলনে দেখেন আমরা কী করতে পারি, বিশেষ করে যেভাবে আমরা আক্রমণে উঠি, ওয়ান-অন-ওয়ানে আমাদের দক্ষতা, ওই জিনিসগুলোই ম্যাচেও দেখতে চান। মাঠে নেমে খেলাটা যে সহজ নয় এটা তিনি কারোর থেকে কম বোঝেন না। আমরা ভালো দলগুলোর বিপক্ষে খেলছি। তিনি জানেন আমরা আমাদের খেলাকে আরও এক ধাপ উপরে নিয়ে যেতে পারি। সেজন্যই ওগুলো বলেছেন তিনি’।
কেইন নিজেও মানছেন, এই টুর্নামেন্টে নিজেদের মান অনুযায়ী ফুটবল এখনো খেলতে পারেনি থ্রি লায়ন্সরা, ‘আমরা এখনও নিজেদের সেরা খেলাটা দেখাতে পারিনি। কিছুটা ঝলক দেখা গেছে, কিন্তু পুরোটা নয়। নরওয়ের বিপক্ষেও সামান্য ঝলক দেখা গেছে। ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে ছিল না, কিন্তু আমরা ভালো খেললে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারতাম। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে আপনি বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষেই খেলবেন। সেমিফাইনালেও তেমন আরেকটা দলের মুখোমুখি আমরা’।
উন্নতির জায়গা দেখলেও এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তার দল যে চরিত্রের প্রদর্শনী রেখেছে তাতে সন্তুষ্ট গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে থাকা কেইন, ‘সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো আমরা সেমিফাইনাল খেলছি। হ্যাঁ আমাদের উন্নতির সুযোগ আছে, তবে এটাকেই একমাত্র আলোচনার বিষয় বানিয়ে ফেলা উচিত হবে না। আমাদের খেলায় অনেক ইতিবাচক দিক আছে। নরওয়ের বিপক্ষে যেভাবে একটা দল হিসেবে ছেলেরা রক্ষণভাগ সামলেছে, যেভাবে আমরা গোলের জন্য ঝাঁপিয়েছি- এগুলো ভীষণ ভালো ছিল’।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। মেসিদের হারাতে পারলেই ৬০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
