Tuesday, July 28, 2026
Homeবাংলাদেশগাজীপুরে গ্যাস সংকট: ব্যাহত শিল্প উৎপাদন, ক্রেতা হারানোর শঙ্কা

গাজীপুরে গ্যাস সংকট: ব্যাহত শিল্প উৎপাদন, ক্রেতা হারানোর শঙ্কা

গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য সরবরাহ করতে না পেরে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের বিদেশি ক্রেতাও হারিয়েছে বলে জানিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া, চান্দনা চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর ও কোনাবাড়ী এলাকার বেশ কয়েকটি পোশাক ও অন্যান্য শিল্পকারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকায় কারখানার ভারী যন্ত্রপাতি ও মেশিন স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কাজের অর্ডার থাকলেও সময়মতো উৎপাদন শেষ করা যাচ্ছে না।

প্যারাগন সিরামিকসের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক রুকুনুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আমরা মারাত্মক গ্যাস সংকটে ভুগছি। শুধু আমাদের কারখানা নয়, রাজেন্দ্রপুর হেলথ কেয়ার এলাকা থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক কারখানা একই সমস্যায় পড়েছে।

বিকল্প ব্যবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বাইরে থেকে সিএনজি কিনে এনে কোনোমতে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু সিএনজি আনা-নেওয়ার জন্য গাড়ির জ্বালানি পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পেরে এরই মধ্যে আমরা কয়েকজন বড় ক্রেতা হারিয়েছি।

গ্যাস না থাকায় কাজের শিফটে বসে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোশাক শ্রমিক। তিনি বলেন, অর্ডারের চাপ থাকলেও গ্যাসের অভাবে অনেক সময় কাজ বন্ধ রেখে বসে থাকতে হয়। ফলে নির্ধারিত কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

গাজীপুরে কতগুলো কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে—জানতে চাইলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের গাজীপুর কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শক এম এম মামুন অর রশিদ বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো কারখানা আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দেয়নি। তবে গ্যাসের স্বল্পচাপ ও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে অন্তত সাত থেকে আটটি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মালিকপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি শফিউল আলম এই সংকটকে শিল্প খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। 

তিনি বলেন, গ্যাসের অভাবে সময়মতো পণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছে না, যা পুরো অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ওভারটাইম কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের আয় কমছে এবং কিছু কারখানায় ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিল্প ও শ্রমিকদের বাঁচাতে দ্রুত শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, ব্যাংকিং জটিলতা, আর্থিক সংকট, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, সময়মতো বেতন না দেওয়া এবং শ্রমিক অসন্তোষের মতো একাধিক কারণে গাজীপুরে সাম্প্রতিক সময়ে ১৮টি পোশাক ও আনুষঙ্গিক কারখানা স্থায়ী ও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে।

এর মধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে লিথি গ্রুপের ফ্যামকম ফ্যাশন, অ্যাপারেল-২১, ফ্যামকম ডাইং ও ফ্যামকম প্রিন্টিং, ফ্যাশন লিংকার্স লিমিটেড, কোরটেক্স অ্যাপারেলস লিমিটেড এবং ইউনিক ডিজাইনার্স লিমিটেড।

অন্যদিকে ইসলাম গার্মেন্টস (ইউনিট-২), এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস, এপেক্স ল্যাঞ্জারি, এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং, এপেক্স ইয়ার্ন ডাইং, প্যানাসিয়া ক্লোদিং, রেডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল এবং কেএসি ফ্যাশন ওয়্যার শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও পরবর্তীতে পুনরায় চালু হয়। 

এছাড়া তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, বে ফুটওয়্যার ও বে স্পোর্টস ওয়্যারও সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

 

 

 

Most Popular