Saturday, July 25, 2026
Homeঅর্থনীতিশ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ৪৬ লাখ

শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ৪৬ লাখ

শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা এক বছরে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গত মার্চে ৪৫ লাখ ৮৩ হাজারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ অ্যাকাউন্ট খুচরা ঋণ গ্রহীতাদের।

এ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আছে, এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা চলতি বছরের মার্চ শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ লাখ ৪৩ হাজার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২১ লাখ ৬৩ হাজার।

গত ২৩ জুলাই ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়, খুচরা পর্যায়ে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবনতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক ঋণের চাপ, এসএমই কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাসের কারণে এটা হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদিও উচ্চ অঙ্কের খেলাপি ঋণ বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা তৈরি করে, তবে ছোট হিসাবগুলোও বড় আর্থিক সংকটের সতর্কবার্তা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মোট বকেয়া ঋণের বিপরীতে সার্বিক মন্দ বা খেলাপি ঋণের অনুপাত গত বছর যেখানে ছিল ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ, এবার তা বেড়ে চলতি বছরের মার্চে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, যা সুশাসনের অভাবকে নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, বিদেশি ব্যাংকগুলোর কঠোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কারণে খেলাপির হার খুবই কম।

বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করেছে, ২০১৬ বা তার পরে চালু হওয়া নতুন ব্যাংক এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো ছাড়া বাকি সব রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও ইসলামী ব্যাংকগুলোতে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে খুচরা ঋণ বেড়েছে।

শিল্পভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, কুটির শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ।

ব্র্যাক ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান মো. মাহীয়ুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ বাড়ার একটি কারণ হতে পারে সঠিক ঋণ ঝুঁকি মূল্যায়নের অভাব। এর একটি অংশ কনজিউমার ও ক্রেডিট কার্ড ঋণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যা উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের কারণে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চের মধ্যে ব্যবসা, কৃষি ও শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি সব ধরনের শিল্পেই খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়েছে।
 

Most Popular