Wednesday, July 15, 2026
Homeবিদেশটানা ১৭ দিন অনশনে সোনম ওয়াংচুক

টানা ১৭ দিন অনশনে সোনম ওয়াংচুক

টানা ১৭ দিন অনশন পালন করছেন ভারতের লাদাখের সোনম ওয়াংচুক। তিনি একাধারে প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, উদ্ভাবক, পরিবেশকর্মী ও র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত সমাজচিন্তক।

তার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছিল বলিউডের বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর ‘ফুনসুখ ওয়াংডু’ বা বা ‘র‌্যাঞ্চো’ চরিত্র।

দিল্লির যন্তর মন্তরে তার এই আমরণ অনশন এখন আর ব্যক্তিগত প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষার স্বচ্ছতা, সরকারি জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতীক হয়ে উঠছে।

গত ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে এই অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক।

আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদের দাবি, গত ১৭ দিনে তার ওজন কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ কেজি। রক্তচাপও কমেছে। চিকিৎসকেরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলেও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

তবুও নিজের সিদ্ধান্তে অটল ওয়াংচুক।

তার স্পষ্ট দাবি, আন্দোলনের দাবিগুলো নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না আসা পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।

মঙ্গলবার বলিউড অভিনেতা ওমি বৈদ্যর একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তার পর এই আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমাতে চতুর রামালিঙ্গম চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এই অভিনেতা।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি চাই না ফুনসুখ ওয়াংডু এভাবে হুমকির মুখে না পড়ুক।’

তার এই ভিডিও বার্তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ওমি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সোনম ওয়াংচুককে চিনি। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী, সৎ ও অনুপ্রেরণাদায়ক একজন মানুষ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার জীবন ও শিক্ষার জন্য দীর্ঘদিনের অবদানকে সম্মান জানানো সবার দায়িত্ব।

গত কয়েক বছরে ভারতে একের পর এক সরকারি চাকরি ও ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনিয়ম, পরীক্ষা বাতিল এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে।

এতে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কেউ বছরের পর বছর ধরে নতুন পরীক্ষার অপেক্ষায় আছেন। আবার মানসিক চাপে আত্মহত্যার ঘটনাও সামনে এসেছে।

এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবিতেই আন্দোলনে নেমেছেন ওয়াংচুক।

আন্দোলনকারীরা কয়েকটি স্পষ্ট দাবি সামনে এনেছেন। এর মধ্যে আছে—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষায় অনিয়মের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি সব পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সংস্কার, পরীক্ষাজনিত মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ।

আন্দোলনকারীদের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এসব উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব দাবির প্রেক্ষিতে ভারতের কোটি কোটি শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীর হতাশা, ক্ষোভ এবং অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে উঠেছে সোনম ওয়াংচুকের এই অনশন।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং দীর্ঘ আইনি জটিলতায় মানুষের আস্থা কমেছে। ফলে আজকের আন্দোলন কেবল একজন মানুষের নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন নিয়ে।

ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষাবিদ, লেখক, শিল্পী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মহুয়া মৈত্র অনশনস্থলে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছেন। দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মার্লেনা সংহতি জানিয়েছেন।

মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, সিপিআই নেতা আমরা রামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিদিন বাড়ছে সংহতির বার্তা।

আন্দোলনকারীরা আগামী ২০ জুলাই ভারতীয় পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন।

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Most Popular