Wednesday, July 15, 2026
Homeবিদেশযুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ: ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধে জড়িয়েছে তার দেশ। 

টানা চার দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে ইরান।

এই পরিস্থিতিতে আবারও বন্ধ হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি।

আজ বুধবার ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘আগ্রাসী কার্যক্রম’ অব্যাহত রাখবে, ততদিন বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালি।

ওই অঞ্চল দিয়ে তেল রপ্তানির অন্যান্য পথেও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুগপৎ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেদিন থেকেই শুরু হয় তীব্র যুদ্ধ। এই যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি করেছে।

যুদ্ধের শুরুতেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। 

বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে ওয়াশিংটনের হামলার পর তারা বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল আইআরআইবি এই বিবৃতি প্রচার করে।

বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শত্রুপক্ষের নৌদস্যুরা ভারত মহাসাগর দিয়ে গোটা বিশ্বের কাছে তেল-গ্যাস রপ্তানির পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের স্বার্থহানি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের জানা উচিত, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা হয়—এমন অন্যান্য তেল-গ্যাস রপ্তানির পথগুলোও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’

তবে কোন কোন রপ্তানি-পথ বন্ধ হতে পারে, সে বিষয়ে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী আর কোনো তথ্য দেয়নি।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ‘এই অঞ্চলের তেল-গ্যাস রপ্তানি সবার জন্য চালু থাকবে, অথবা কেউই পাবে না।’

পৃথক এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘আমাদের যোদ্ধারা প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রাখবে। যতদিন যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন চালাবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।’

তেহরান চায়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে। তাদের বেঁধে দেওয়া পথেই জাহাজগুলোকে চলতে হবে এবং প্রয়োজনে শুল্ক দিতে হবে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিষয়টির বিরোধিতা করেন।
 

Most Popular