ঢাকাই সিনেমার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা দিলদার আজও দর্শকের স্মৃতিতে বেঁচে আছেন। তিনি এমন একজন কৌতুক অভিনেতা ছিলেন, যাকে ওই সময়ের সিনেমায় বেশ গুরুত্ব দেওয়া হতো। এ কারণে নায়ক-নায়িকার পাশাপাশি দিলদারের লিপেও সিনেমায় গান রাখা হতো।
দিলদার অভিনীত উল্লেখ্যযোগ্য সিনেমার গানের তালিকায় রয়েছে ‘কী করে বলব তোমায়’, ‘হাজার টাকার বাগান খাইবো’, ‘যদি সুন্দর একখান বউ পাইতাম’, ‘এক দিন দুই দিন তিন দিন’, ‘ভাঙা কপাল’, ‘আমি নই ফেরেশতা’, ‘তুই যদি আমার হইতি রে’, ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’, ‘আমি একটা আমগাছ’, ‘আমার চেহারা জাপানি, করি না আমি ফুটানি’, ‘তোর পিরিতের এত ঝাল উঠে গেছে পিঠের ছাল’, ‘ও সরকার একটা চাকরির খুব দরকার’ ইত্যাদি।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শুধু কৌতুক চরিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না দিলদার। তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত ‘আবদুল্লাহ’ সিনেমায় তার নায়িকা ছিলেন নূতন। ওই সিনেমায় তার অভিনয় বেশ আলোচিত হয়েছিল।
তবে তিনি ঢাকাই সিনেমায় হাসির সম্রাট হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ভালোবেসে ভক্তরা তাকে ‘ঢাকাই সিনেমার হাসির রাজা’ বলে ডাকতেন।
হাসির এই রাজা ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই ৫৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তবে মৃত্যুর দুই দশক পরও তিনি দর্শকের ভালোবাসায় টিকে আছেন।
১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন দিলদার। রুপালি পর্দায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দর্শকের মন জয় করেছেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
পর্দায় সব সময়ই হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত ছিলেন দিলদার। জনপ্রিয়তায় তিনি সে সময়কার অনেক নায়ককেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। দর্শকের কাছে বিনোদনের প্রতীক হলেও পর্দার আড়ালে ব্যক্তি দিলদার ছিলেন বেশ দৃঢ়চেতা ও জেদি স্বভাবের।
দিলদারের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় মাত্র ২০ বছর বয়সে। প্রথম সিনেমা ছিল ‘কেন এমন হয়’। তার উল্লেখযোগ্য কিছু সিনেমা হলো—‘বেদের মেয়ে জোছনা’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘গুণ্ডা নাম্বার ওয়ান’, ‘শান্ত কেন মাস্তান’, ‘খাইরুন সুন্দরী’, ‘নসিমন’, ‘কন্যাদান’, ‘শুধু তুমি’, ‘প্রিয়জন’, ‘বাঁশিওয়ালা’, ‘গাড়িয়াল ভাই’, ‘প্রেম যমুনা’, ‘অচিন দেশের রাজকুমার’, ‘লাইলি মজনু’, ‘নাগ নাগিন’ ইত্যাদি।
