হরমুজ প্রণালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) বরাতে আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউকেএমটিও প্রথম হামলার খবর প্রকাশের পর কাতার দাবি করে, তাদের একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান।
সর্বশেষ মঙ্গলবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী একটি ট্যাংকারকে ঘিরে আরও একটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। অজ্ঞাত একটি মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) ট্যাংকারটিতে আঘাত হানে, এতে জাহাজটির সামান্য কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। তবে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।’
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউকেএমটিও জানিয়েছিল, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে দ্বিতীয় একটি ট্যাংকারেও হামলা হয়েছে।
তখন সংস্থাটি জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনাতেও কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এরও আগে সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছে ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত একটি বস্তু’ আঘাত হেনে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে জানায় ইউকেএমটিও।
UKMTO WARNING 082-26
Click here to view UKMTO Products⤵️https://t.co/WONv2QkMJu#MaritimeSecurity #MarSec pic.twitter.com/mJIxl6Y93G
— UKMTO Operations Centre (@UK_MTO) July 7, 2026
সংস্থাটি জানায়, ঘটনাটি ওমানের লিমাহ থেকে আট নটিক্যাল মাইল পূর্বে ঘটেছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউকেএমটিও জানায়, দক্ষিণমুখে চলাচলের সময় একটি ট্যাংকারের বাম পাশে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানে, এতে আগুন লাগে। এ ঘটনাতেও কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউকেএমটিও সব জাহাজকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ সংস্থাটিকে জানাতে পরামর্শ দিয়েছে। একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষ ঘটনাগুলোর তদন্ত করছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস সোমবার রাতে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দাবি করে, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
কর্মকর্তাদের একজন জানান, দ্বিতীয় একটি জাহাজেও আঘাত লেগেছে এবং সেটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে অ্যাক্সিওসের এ প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এএফপি। এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে এএফপির অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি পেন্টাগন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তির প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির কাছে এসব হামলার ঘটনা ঘটল।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালি ছিল উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। সে সময় ইরান এই জলপথ অবরোধ করলে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বেড়ে যায়।
বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা নৌ অবরোধ আরোপ করে এবং পরে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।
সংঘাতের অবসান এবং কৌশলগত এই নৌপথ পুনরায় চালুর লক্ষ্যে গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করার পর সমুদ্রপথে চলাচল আবার শুরু হয়।
তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রণালিটি দিয়ে অবাধে চলাচল করার মতো যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতিতে আর ফেরা হবে না।
তেহরান তাদের উপকূলঘেঁষা অনুমোদিত করিডরের বাইরে কোনো পথ ব্যবহার না করতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে এশিয়ায়, জ্বালানি রপ্তানির প্রধান সমুদ্রপথ হলো হরমুজ প্রণালি।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।
