Sunday, July 5, 2026
Homeবিদেশ‘কোথায়’ মোজতবা খামেনি?

‘কোথায়’ মোজতবা খামেনি?

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আজ দ্বিতীয় দিন। ছয় দিনব্যাপী এ শোকানুষ্ঠান ইরানের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ইরাকেও অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে চূড়ান্তভাবে দাফন করা হবে।

আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরজুড়ে ছয় দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে সব মিলিয়ে এক থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে তেহরান।

কিন্তু এই বিপুল আয়োজনে অনুপস্থিত থাকছেন একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। 

আজ রোববার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। 

আলি খামেনির প্রয়াণের পর ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত মোজতবার এই শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার বিষয়টি জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। সবার মনে প্রশ্ন, কোথায় মোজতবা খামেনি? 

রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে কাঁচঘেরা একটি বিশেষ স্থাপনায় খামেনির কফিন রাখা হয়েছে। আজ রোববার কফিনের সামনে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

এই দোয়া অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতে পারেন কোনো সুপরিচিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা খামেনির পরিবারের একজন সদস্য। 

তবে ওই সদস্য যে মোজতবা খামেনি নন, সেটা নিশ্চিত।  

ইরানের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছেন, ছয়দিনব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার  অংশ নেবেন না ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি। মূলত নিরাপত্তার প্রতি হুমকির কারণেই এই সিদ্ধান্ত। 

ইসরায়েল নিরবচ্ছিন্নভাবে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে তেহরান। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তার স্ত্রী, বোন, বোন-জামাই এবং একটি ১৪ মাস বয়সী ভাগ্নি। 

ওই হামলায় প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আঘাত পান তার ছেলে মোজতবা খামেনি। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মতে, তিনি এখনো ‘সেরে উঠছেন’।  

ওই ঘটনার কয়েকদিন পর মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হলেও বাবার মৃত্যুর পর তাকে এক মুহূর্তের জন্যেও জনসম্মুখে দেখা যায়নি। 

সে সময় থেকে মোজতবা খামেনির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বেশ কয়েকটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। 

তবে একটি বিবৃতিও তিনি নিজ মুখে পড়ে শোনাননি। 

গত ১৮ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে মোজতবা খামেনি জানান, তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে স্মারক চুক্তি সইয়ের বিষয়টিতে সম্মতি দিয়েছেন। 

বিবৃতিতে মোজতবা খামেনির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা এ বিষয়টি নিয়ে ‘ভিন্নমত’ পোষণ করলেও শীর্ষ ইরানের কর্মকর্তারা তাকে আশ্বস্ত করার পর তিনি এতে সম্মতি দেন। 

কর্মকর্তা নিশ্চয়তা দেন, এই চুক্তি ‘ইরান ও তার সহযোগীদের স্বার্থ রক্ষা করবে।’  

পরবর্তীতে ২৮ জুন অপর এক লিখিত বার্তায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিপরীতে ন্যায়বিচার আদায় ও জবাবদিহির দাবি জানান তিনি। তার বাবাকে হত্যা সহ সব ধরনের যুদ্ধাপরাধের জন্য তিনি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের দায় দেন এবং তাদের এসব অপরাধের জন্য উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান। 

‘উপযুক্ত বিচারের জন্য ওই অপরাধীদের ঘাড়ে ধরে বিচারের কাঠগড়ায় ওঠানো উচিত’, মত দেন মোজতবা খামেনি।

ইরান, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস, লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলের একটি বহুল ব্যবহৃত কৌশল হল ‘শীর্ষ নেতাদের’ গোপনে হত্যা। 

সাম্প্রতিক সময়ে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্মুখ হামলার বদলে চোরাগোপ্তা হামলা বা গুপ্তঘাতক ব্যবহার করছেন দেশটির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 

মোজতবা খামেনিও আততায়ীর হাতে নিহত হতে পারেন—এই আশঙ্কাতেই মূলত মোজতবা খামেনিকে দৃশ্যপট থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।

গোটা ইরানজুড়ে সবচেয়ে সুরক্ষিত তথ্য সম্ভবত মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থান। 

Most Popular