Wednesday, July 1, 2026
Homeবাংলাদেশলতিফুর রহমানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

লতিফুর রহমানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পপতি লতিফুর রহমানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২০ সালের ১ জুলাই কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নিজের পৈতৃক বাড়িতে ঘুমের মধ্যে মারা যান লতিফুর রহমান। তিনি ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন।

লতিফুর রহমান এমন এক দিনে মারা যান, যে দিনটিতে তার নাতি ফারাজ আয়াজ হোসেনেরও মৃত্যুবার্ষিকী। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারাজ ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত হন।

লতিফুর রহমান দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মিডিয়াওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি বাংলা দৈনিক প্রথম আলো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মিডিয়াস্টারের চেয়ারম্যান ছিলেন।

নিজ মেধা, সততা ও পরিশ্রমে ট্রান্সকম গ্রুপকে দেশের অন্যতম বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

১৯৪৫ সালের ২৮ আগস্ট ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্ম নেন লতিফুর রহমান। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় সেন্ট ফ্রান্সিস স্কুলে। এরপর ১৯৫৬ সালে তিনি শিলংয়ের সেন্ট এডমন্ডস স্কুলে ভর্তি হন। পরে তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়াশোনা করেন।

১৯৬৬ সালে চাঁদপুরে পরিবারের মালিকানাধীন ডব্লিউ রহমান জুট মিলে ট্রেইনি হিসেবে কাজ শুরু করেন লতিফুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এটিই ছিল কোনো বাঙালির মালিকানাধীন প্রথম পাটকল।

সেখানে তিনি নির্বাহী হিসেবে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে সরকার ওই পাটকল জাতীয়করণ করলে লতিফুর রহমান ও তার পরিবার কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েন। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাদের পরিবারের চা-বাগানও ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর উৎপাদন খরচের চেয়ে চায়ের দাম অনেক কমে যায়।

একই বছর একটি সুইস কোম্পানির সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

এরপর ১৯৮১ সালে লতিফুর রহমান ট্রান্সকম গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। কালক্রমে এই গ্রুপ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়। বর্তমানে উৎপাদন, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, পানীয়, গণমাধ্যম, ভোগ্যপণ্য, খাদ্য ও বিমাসহ নানা খাতে এই গ্রুপের ব্যবসা বিস্তৃত।

লতিফুর রহমান আইসিসি-প্যারিসের নির্বাহী বোর্ড সদস্য, আইসিসি-বাংলাদেশের সহসভাপতি এবং ব্র্যাকের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ বেটার বিজনেস ফোরাম এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) উপদেষ্টা কমিটিরও সদস্য ছিলেন।

তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাতবারের সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন।

লতিফুর রহমান বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য সংগঠন সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবসার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। ২০০১ সালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ তাকে ‘বিজনেস এক্সিকিউটিভ অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত করে। এ ছাড়া তিনি ‘সার্ক আউটস্ট্যান্ডিং লিডার’ এবং ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।

লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান বর্তমানে ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারপারসন। তাদের চার সন্তান—প্রয়াত আরশাদ ওয়ালিউর রহমান, সিমিন রহমান (বর্তমানে ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও), শাযরেহ হক ও প্রয়াত শাজনীন রহমান।

নৈতিক ব্যবসায়ে বিশ্বাসী এক সফল উদ্যোক্তা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে লতিফুর রহমান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

Most Popular