Tuesday, June 30, 2026
Homeবিদেশপ্যারিসে রেকর্ড তাপপ্রবাহ: জায়গা সংকটে মর্গ ও শেষকৃত্য প্রতিষ্ঠান

প্যারিসে রেকর্ড তাপপ্রবাহ: জায়গা সংকটে মর্গ ও শেষকৃত্য প্রতিষ্ঠান

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সে। নজিরবিহীন এ গরম আবহাওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্যারিসের শেষকৃত্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং মর্গগুলোতে ধারণক্ষমতার সংকট দেখা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেশটির ন্যাশনাল ফিউনারেল ফেডারেশনের প্রধান এলিজাবেথ শারিয়ের জানান, গ্রীষ্মকালে সাধারণত শেষকৃত্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারণক্ষমতার ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশে সেই হার ৬৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে শহরাঞ্চলের অনেক মর্গই পুরোপুরি পূর্ণ হয়ে গেছে।’

এলিজাবেথ বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে প্যারিস শহরের কেন্দ্রস্থলে। সেখানে থাকা মাত্র দুটি শেষকৃত্যসেবা প্রতিষ্ঠান গত শুক্রবার থেকেই পুরোপুরি পূর্ণ। ফলে মানুষকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য প্যারিসের বাইরে—শহরের ভেতর বা বাইরের উপশহরে, এমনকি আরও দূরে যেতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, কারণ দাহ করার সময়সূচি কিংবা কবরস্থানে সমাধিস্থ করার জায়গার জন্য অপেক্ষার সময় বেড়ে যেতে পারে।’

ফ্রান্সে গত ২৪ জুন, বুধবার দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। গত রোববার ফরাসি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ওই দিনের পর থেকে দেশটিতে অন্তত এক হাজার বেশি মৃত্যু হয়েছে।

তাপপ্রবাহের আগে এপ্রিল ও মে মাসে ফ্রান্সে দৈনিক গড় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯০০ থেকে ১ হাজার। তাপপ্রবাহ শুরুর পর গত ২৪ জুন দেশটিতে ১ হাজার ২০০ মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়। পরের দুদিন—বৃহস্পতি ও শুক্রবার মারা যান আরও ১ হাজার ৪০০ জন করে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

কর্মকর্তারা আরও জানান, তাদের মধ্যে ৮৫ শতাংশের বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তার বেশি। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে নিজ বাড়িতে। বিশেষ করে প্যারিস ও এর আশপাশের এলাকায় মারা গেছেন ৪০ শতাংশ মানুষ।

ফ্রান্সের খুব কম বাড়িতেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এয়ার কন্ডিশনার) রয়েছে। এছাড়া, দেশটির অধিকাংশ স্কুলও চরম তাপমাত্রা মোকাবিলার উপযোগী করে নির্মিত নয়।

গতকাল সোমবার এক বৈঠকে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো কার্যকর হয়েছে দাবি করেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু। 

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালগুলোর জন্য প্রথম দফার আনা এয়ার কন্ডিশনারগুলো এই সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে সরবরাহ করা হবে।’

‘এটি আমাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমাদের লক্ষ্য—ভবিষ্যতে যদি আবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে হাসপাতালগুলো যেন আরও বেশি নিয়ন্ত্রণে থাকে,’ যোগ করেন তিনি।

তবে পরিবেশবাদী দল দ্য গ্রিনসের (দ্য ইকোলজিস্টস) নেতা মারিন তঁদেলিয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘হাইপারথার্মিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য জরুরি বিভাগগুলোতে বরফের সংকটও দেখা দিয়েছে।’

রোববার এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য যেসব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দায়ী, তা নির্ধারণ করতে তাপপ্রবাহে সৃষ্ট বিপুল মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এর দায় কাউকে না কাউকে নিতেই হবে।’

দৈনিক লে মোঁদ লিখেছে, পরিবেশগত সাফল্যের দাবি করলেও বাস্তবে লাখো ফরাসিকে অসহনীয় গরমে নিজেদের মতো করে টিকে থাকতে হয়েছে—নিজেদের বাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে।

পত্রিকাটি মন্তব্য করে, ‘তাপপ্রবাহে এক হাজার মানুষের মৃত্যুর পরও এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে কোনো শোক বার্তা আসেনি।’

এদিকে, দেশটির যেসব বাড়িতে রোদ প্রতিরোধ বা পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা নেই, সেসব বাড়ির ভাড়াটিয়াদের জন্য ভাড়া স্থগিতের দাবি করে একটি পিটিশন শুরু করেছে আবাসন সহায়তা সংস্থা ও বিভিন্ন অধিকারকর্মীর একটি জোট।

পিটিশনটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষ সই করেছেন। 
 

Most Popular