যুদ্ধ শুরুর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ইরানের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইলেক্ট্রনিকভাবে একটি চুক্তিতে সই করেছেন বলেও জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর একযোগে বিমান হামলা শুরু করে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু বড়সড় ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন।
এর মধ্যে অন্যতম ছিল—ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা, তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প গুঁড়িয়ে দেওয়া, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ চিরতরে বন্ধ করা এবং সর্বোপরি ইরানের শাসনতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে সেখানে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—যুদ্ধ ঘোষণার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বিশাল ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন, তা কি আদৌ অর্জিত হয়েছে?
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করছেন, তিনি এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন এবং এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে।
যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পকে পুরোপুরি ধ্বংস করা।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল। যার সংখ্যা ছিল আড়াই হাজার থেকে ৬ হাজার। এর মধ্যে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম ছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের ১৬১টি নৌযান ধ্বংস করেছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৮২ শতাংশ অকেজো করে দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, যুদ্ধ চলাকালীন ১ হাজার ৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬ হাজার ড্রোন আটকে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া যুদ্ধের প্রথম দিকে মার্কিন সূত্রগুলো দাবি করেছিল যে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের তিন ভাগের এক ভাগ ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে বার্তাসংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কৌশলগত সাফল্যের পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
অ্যাডমিরাল কুপার নিজেই স্বীকার করেছেন যে, এই অঞ্চলে হামলা চালানোর মতো মাঝারি থেকে ক্ষুদ্র সক্ষমতা এখনো ইরানের রয়েছে।
এর প্রমাণ পাওয়া যায় জুনের শুরুতে, যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ কুয়েত ও বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং ইসরায়েলের দিকেও মিসাইল ছোড়ে।
এছাড়া, ইরানের বিমানবাহিনী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লেও, মেশিনগান ও ড্রোন সজ্জিত ছোট নৌযানগুলো দিয়ে তারা এখনো সমুদ্রে জাহাজগুলোকে হয়রানি করার ক্ষমতা রাখে।
অন্যদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং গাজার হামাসের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে ইরান যেন আর কোনো সহায়তা দিতে না পারে, সেটিও ট্রাম্পের একটি বড় লক্ষ্য ছিল।
যুদ্ধের আগে ইসরায়েলের হামলায় হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতারা নিহত হলেও, ইরান এই গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করার কোনো লক্ষণ দেখায়নি। বরং হিজবুল্লাহ ২ মার্চ যুদ্ধে যোগ দিয়ে ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। এটির জেরে ইসরায়েল লেবাননে বিমান ও স্থল হামলা শুরু করে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ জন নিহত এবং ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
অথচ এখন ট্রাম্প হিজবুল্লাহকে স্রেফ একটি ‘ছোট পিনপ্রিক’ বা সামান্য উপদ্রব হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। তিনি আশ্চর্যজনকভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, ইসরায়েলের বদলে সিরিয়ার নতুন নেতা আহমেদ আল-শারার উচিত হিজবুল্লাহকে দমন করা।
ট্রাম্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চিরতরে বন্ধ করা।
গত জুনে ফোরদো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ‘সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন’ হয়ে গেছে।
কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, যুদ্ধের পরও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতায় খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। তারা চাইলে এখনো এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারবে।
এপি জানায়, ইরানের কাছে এখনো প্রায় ৯৭০ পাউন্ড উচ্চ-মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা দিয়ে অন্তত ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
ট্রাম্প সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনে এই মজুতকে ‘পারমাণবিক ধুলো’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি বলেছেন, এর কোনো আর্থিক মূল্য নেই, তবে ‘মনস্তাত্ত্বিক’ কারণে যুক্তরাষ্ট্র এটি ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু ইরান এই ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করবে কি না, তা নিয়ে চুক্তিতে কোনো সুস্পষ্ট ফয়সালা হয়নি।
বরং এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে মাত্র ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা হয়েছে। সে সময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে বলে জানায় সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
যুদ্ধের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে তাদের সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার এবং শাসনভার নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া এই যুদ্ধ থামবে না।
মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প একে শাসনতন্ত্র পরিবর্তনের ‘সবচেয়ে বড় সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক থিংকট্যাংক স্টিমসন সেন্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ক্ষমতা গ্রহণ করলে ইরানের কট্টরপন্থী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরও বেশি ক্ষমতাবান হয়ে ওঠে।
আর শাসনতন্ত্র পরিবর্তনের স্বপ্ন যখন অলীক কল্পনায় পরিণত হলো, তখন ট্রাম্প তার সুর নরম করতে বাধ্য হন।
তিনি এখন দাবি করছেন, তিনি কখনোই শাসনতন্ত্র পরিবর্তন চাননি। উল্টো তিনি ইরানের নতুন নেতৃত্বকে ‘অত্যন্ত যুক্তিবাদী’, ‘চমৎকার’ এবং ‘উগ্রপন্থি নয়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
অথচ মোজতবা খামেনি সম্প্রতি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিকের বিশ্লেষণে বলা হয়, ট্রাম্পের এই সুর নরম মূলত তার চিরাচরিত কৌশল। যেখানে তিনি তার শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে যুক্তিবাদী বলে আখ্যা দেন, যাতে জনগণকে বোঝাতে পারেন যে তিনি কোনো ভুল চুক্তিতে জড়াননি।
এই চুক্তির একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি।
ট্রাম্প এটিকে তার অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরে বলছেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো—তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো, তেল প্রবাহিত হতে দাও!’।
তবে এখানে এক বড় ধরনের পরিহাস লুকিয়ে আছে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। যুদ্ধের কারণেই ইরান তাদের ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এই প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, সারের তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।
অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি স্টিমসন সেন্টারকে বলেন, এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন পরিবারগুলোর অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ বেড়েছে। অর্থাৎ, যে প্রণালি আগে থেকেই খোলা ছিল, সেটি নিজেরা যুদ্ধ বাঁধিয়ে বন্ধ করার পর এখন আবার সেটি খুলে দেওয়াকে ট্রাম্প একটি ‘বিশাল বিজয়’ হিসেবে দাবি করছেন।
মূলত এই প্রণালি বন্ধ করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যে পরিমাণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছে, তা এই চুক্তির টেবিলে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ট্রাম্প এই সমঝোতাকে যতই বিশাল বিজয় হিসেবে প্রচার করুন না কেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা এটিকে ভিন্ন চোখে দেখছেন।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক ফেলো রবার্ট কাগান দ্য আটলান্টিকে লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের এই উপসংহার মূলত একটি আত্মসমর্পণ। তিনি নিঃসন্দেহে আশা করছেন যে আমেরিকানরা এই পরাজয়ের মাত্রাটি খেয়াল না করেই তাকে পার পেতে দেবে।’
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির বিশ্লেষক সিনা তুসি বলেন, ট্রাম্প অত্যন্ত বড় বড় লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি একটি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ হোয়াইট হাউস ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাসের যে দাবি করেছিল, বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক ভিন্ন ছিল।
জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক অধ্যাপক রবার্ট লিটওয়াক ট্রাম্পের এই পিছু হটাকে একটি ‘লেনদেনমূলক চুক্তিতে’ বাধ্য হওয়া হিসেবে দেখছেন।
তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘যেহেতু শাসনতন্ত্র পরিবর্তনের মতো কোনো ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়নি, তাই ট্রাম্প বাধ্য হয়ে এমন একটি চুক্তিতে যাচ্ছেন যা মূলত ওবামা আমলের জেসিপিওএ চুক্তিরই একটি ভিন্ন রূপ।’
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল বি শাপিরো নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এই চুক্তিটি ওবামা আমলের চুক্তির চেয়েও খারাপ হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ইরান খুব ভালো করেই জানে কীভাবে আলোচনা দীর্ঘায়িত করতে হয় এবং পথিমধ্যে সুবিধা আদায় করে নিতে হয়। এই চুক্তিতে হয়তো আগের চেয়েও খারাপ শর্ত থাকবে।’
ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের প্রধান নির্বাহী মার্ক দুবোভিৎস অবশ্য এই চুক্তির কট্টর সমালোচক।
তার মতে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং ইরানের জনগণকে সমর্থন দিয়ে এই শাসনতন্ত্রের পতন ঘটানোই একমাত্র পথ।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ওয়ালি নাসর বলেন, ইরানের নীতি-নির্ধারকরা শাসনতন্ত্র টিকিয়ে রাখাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘ইরান ট্রাম্পকে বিশ্বাস করে না। তাদের কৌশল হলো ‘বিশ্বাস করো, কিন্তু যাচাই করো। তারা ধীরে ধীরে অবরোধ প্রত্যাহার এবং অন্যান্য প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে তারপর পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনায় বসবে।’
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই চুক্তিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছে ইসরায়েল। যুদ্ধের অংশীদার হলেও এই শান্তি চুক্তির প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলকে রাখা হয়নি।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ ফেলো এইচ এ হেলিয়ার বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রায় সমগ্র রাজনৈতিক মহল এই পরিস্থিতি নিয়ে অখুশি। ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যে আমরা প্রকাশ্যে বা গোপনে প্রচুর উত্তেজনা দেখতে পাব।’
সার্বিক বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য এবং হাজারো ইরানি নাগরিকের প্রাণহানির পর এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে আগের অবস্থানেই ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোর প্রায় কোনোটিই অর্জন করতে পারেননি। ট্রাম্প হয়তো মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটি যুদ্ধবিরতি টেনে নিজের ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা করছেন এবং নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষরের মতো অবাস্তব শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন।
কিন্তু একটি স্থায়ী শান্তি বা ইরানের পারমাণবিক হুমকির চূড়ান্ত সমাধান এই চুক্তির মাধ্যমে আদৌ সম্ভব কি না, তা আগামী ৬০ দিনের জটিল আলোচনার পরই পরিষ্কার হবে।
সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে যে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই কূটনীতির পথেই হাঁটতে হচ্ছে।
