Sunday, June 14, 2026
Homeখেলাসুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল কাতার

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল কাতার

ম্যাচের ৬৮ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলমুখে ২৬টি শট নিল সুইজারল্যান্ড। এর মধ্যে সাতটি ছিল লক্ষ্যে। আক্রমণের বন্যা বইয়ে দেওয়া দলটি অনেক সুযোগ হাতছাড়া করলেও জয়ের পথেই ছিল। কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে হিসাবনিকাশ গেল বদলে। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে জাল কাঁপাল কাতার। হারের মুখ থেকে নাটকীয়ভাবে স্মরণীয় পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল তারা।

শনিবার রাতে সানফ্রান্সিসকোতে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন স্ট্রাইকার ব্রিল এম্বোলো। তবে দমে না গিয়ে শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে সমতা টানেন কাতারের অধিনায়ক বুয়ালেম খৌখি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কাতারের এটি প্রথম পয়েন্ট। গত ২০২২ সালের আসরে আয়োজক হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়ে তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল তারা।

বে এরিয়া স্টেডিয়ামে প্রথম ভালো আক্রমণটি করে কাতার। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র দুই মিনিট। মানুয়েল আকঞ্জির ভুলে সুযোগ পেলেও সোজা গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের হাতে বল তুলে দেন এদমিলসন জুনিয়র।

এরপর শুরু হয় সুইসদের ঝড়। ষষ্ঠ মিনিটে ড্যান এনদোয়ের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকান ম্যাচজুড়ে আলো ছড়ানো গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা। চার মিনিট পর রুবেন ভারগাসের নিচু ক্রস থেকেও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন এনদোয়ে। বল চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।

১৭তম মিনিটে সুইজারল্যান্ড পায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ডি-বক্সে রেমো ফ্রয়লারকে ফাউল করেন আবুনাদা, দেখেন হলুদ কার্ড। পেনাল্টি পায় সুইসরা। স্পট কিক নিতে আসেন এম্বোলো। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে ভুল দিকে পাঠিয়ে অনায়াসেই বল জালে জড়ান তিনি।

নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার সব রকম চেষ্টাই এরপর করেন আবুনাদা। এনদোয়ের হাফ-ভলি আটকে দেন তিনি, রুখে দেন ভারগাসের শটও। আর বিরতির আগে মিশেল এবিশারের প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন কাতারের আইয়ুব আল উই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। দূর থেকে নেওয়া তার জোরাল শট ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়।

এরপর খেলার গতি কমে যায়। ৭৫তম মিনিটে আবারও আবুনাদা হয়ে দাঁড়ান বাধার দেয়াল। ফের ভারগাসকে হতাশ করেন তিনি, যা ছিল বিরতির পর লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের প্রথম শট।

সময় ফুরিয়ে আসছিল কাতারের। তবে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে পাল্টা আক্রমণে ওঠার পুরস্কারটা শেষদিকে তারা পেয়ে যায়। হোমাম এল আমিনের নিখুঁত ক্রসে জোরাল হেডে বল জালে পাঠিয়ে দলকে উল্লাসে মাতান খৌখি।

ফলে বেশ কিছু ভালো সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয় সুইজারল্যান্ডকে। পুরো ম্যাচে তাদের নেওয়া শটের সংখ্যা ছিল ২৬টি। ১৯৬৬ সালের আসর থেকে হিসাব রাখা শুরুর পর বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এটি তাদের সবচেয়ে বেশি শট নেওয়ার নজির।

অন্যদিকে, কাতারের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় গোলের দেখা পেয়েছে তারা, পেয়েছে প্রথম পয়েন্টের স্বাদও।

Most Popular