একদিকে মেসির বিদায়, অন্যদিকে বেনিনের কাছে এটি জাতীয় দলের সম্মানের লড়াই। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির শেষ ম্যাচ বলে আবেগ থাকবে, শ্রদ্ধা থাকবে, কিন্তু মাঠে কোনো ছাড় নয়। বরং মেসিকে গোল উপহার দেওয়ার তো প্রশ্নই নেই, শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পেলেও তার শট ঠেকানোর চেষ্টা করবেন বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দানজিনু। তার সাফ কথা, ‘আমরা আর্জেন্টিনায় পর্যটক হয়ে আসিনি, খেলতে ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই এসেছি।’
আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করা মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে জাতীয় দলের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ। মনুমেntaল স্টেডিয়ামে সেই বিদায়ী মুহূর্তের সাক্ষী হতে প্রস্তুত ফুটবলবিশ্ব। তবে এই বিশেষ আয়োজনের মধ্যেও প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব ভুলতে রাজি নন দানজিনু।
বুয়েনস এইরেসে ম্যাচের আগে কথা বলতে গিয়ে মেসির বিদায়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্বীকার করেছেন বেনিনের এই গোলরক্ষক। তার কাছে ম্যাচটি অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে আলাদা, ‘আমার কাছে এই ম্যাচটা অন্য কোনো ম্যাচের মতো নয়। আমার মনে হয়, এটা জীবনে একবারই আসে এমন একটা সুযোগ, কারণ এটা মেসির শেষ ম্যাচ। এটা বিশেষ একটি ম্যাচ।’
তবে আবেগের পাশাপাশি নিজের দলের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘আমরা আর্জেন্টিনা ও মেসির জন্য এখানে আছি, কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে আমরা আমাদের দেশেরও প্রতিনিধিত্ব করছি। এটাই ফুটবল, ১১ জন বনাম ১১ জন।’
ম্যাচের ফল নিয়েও কোনো পূর্বধারণা নিয়ে নামছে না বেনিন। দানজিনুর ভাষায়, ‘আমরা জিততে পারি, ড্র করতে পারি, আবার তারা জিততেও পারে। আমরা আর্জেন্টিনায় পর্যটক হয়ে আসিনি; আমরা খেলতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসেছি।’
মেসির বিদায়ী ম্যাচে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তকে কি একটি গোল উপহার দিয়ে বিদায়টাকে আরও নিখুঁত করে তুলবে বেনিন? বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পেলে মেসিকে গোল করার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে একেবারেই দ্বিধাহীন দানজিনু।
‘না, না। আমি একজন গোলরক্ষক এবং আমার কাজ হলো শট ঠেকানো। এমনকি শেষ মুহূর্তে যদি পেনাল্টি হয়, আর মেসি সেটি নেয়, তাহলেও আমি সেটা ঠেকানোর চেষ্টা করব। বিষয়টা এতটাই সহজ, এটাই ফুটবল,’ মার্কাকে বলেছেন তিনি।
মেসির মতো মহাতারকাকে গোল উপহার দেওয়ার প্রয়োজনই নেই বলেও মনে করেন বেনিনের এই গোলরক্ষক, ‘হ্যাঁ, আমরা এখানে মেসিকে উদযাপন করতে এসেছি। কিন্তু কেউ আমাদের বলেনি যে তাঁকে একটি গোল উপহার দিতে হবে। আর মেসিকে যতটা জানি, তাতে তার কোনো উপহারের প্রয়োজন নেই। সে যদি গোল করতে চায়, তাহলে গোল করার জন্য তাকে সবকিছু করতে হবে।’
তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুনের আড়ালে মেসির প্রতি নিজের মুগ্ধতাও লুকাননি দানজিনু। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে টেলিভিশনের পর্দায় দেখে আসা সেই কিংবদন্তির সঙ্গে একই মাঠে দাঁড়ানোর সুযোগকে তিনি দেখছেন জীবনে একবার পাওয়া যায় এমন অভিজ্ঞতা হিসেবে। ম্যাচ শেষে মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি নিয়ে অবশ্য বেনিন শিবিরে শুরু হয়ে গেছে অন্যরকম আগ্রহ। দানজিনুর রসিকতা, দলের প্রত্যেকেই নাকি মেসির জার্সি চান।
‘আমার দলের যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে দেখবেন, সবাই তার জার্সি চায়। তাই অনেকগুলো জার্সি বানিয়ে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে একটি করে দিলে দারুণ হয়। কারণ আমাদের মধ্যে যদি শুধু একজন গিয়ে জার্সি চাইতে পারে, তাহলে আমার মনে হয় সেটা সহজ হবে না। আমরা সবাই একটা করে চাই!’ বলেছেন তিনি।
