Saturday, October 3, 2026
Homeবাংলাদেশ‘কিল্লা ঘর’ বানিয়ে পাখি শিকার: চলনবিলে ৩ শিকারির দণ্ড, ৫০ বক উদ্ধার

‘কিল্লা ঘর’ বানিয়ে পাখি শিকার: চলনবিলে ৩ শিকারির দণ্ড, ৫০ বক উদ্ধার

নাটোরের সিংড়ার চলনবিল অঞ্চলে ‘কিল্লা ঘর’ বানিয়ে পাখি শিকারের দায়ে তিন শিকারিকে কারা ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ শনিবার সকালের অভিযানে এই তিন শিকারিকে আটক ও ঘটনাস্থল থেকে ৫০টিরও বেশি বক উদ্ধার করা হয়।

সিংড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুমের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে এক দিনের কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

দণ্ডিতরা হলেন—সিংড়া উপজেলার পূর্ব ভেংরী গ্রামের আব্দুর রশিদ (৫৫), মোকসেদ আলী (৫০) ও আবু হানিফ (৪০)।

তার আগে নিশাত আনজুমের নেতৃত্বে ও চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যদের সহযোগিতায় উপজেলার অগমুর্শান, বামিহাল, কাকিয়ান ও পূর্ব ভেংরী বিলে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় বিলে লুকিয়ে রাখা ১০টি কিল্লা ঘর ধ্বংস করা হয়।

গাছের পাতা দিয়ে কৃত্রিমভাবে তৈরি ছোট কুঁড়েঘর স্থানীয়ভাবে কিল্লা ঘর নামে পরিচিত। এর ওপর পোষা পাখি বসিয়ে রাখা হয় অন্য পাখিদের প্রলুব্ধ করতে। প্রলোভনে পড়ে কিল্লা ঘরের কাছে এলেই ওত পেতে থাকা শিকারিদের ফাঁদে ধরা পড়ত পাখিগুলো।

নিশাত আনজুম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিশাল চলনবিল এলাকায় শিকারিরা সক্রিয় রয়েছে। তথ্য পেলেই আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আজকের অভিযানে প্রায় ৫০টি বক উদ্ধার করে বিলের জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়েছে।’

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাকৃতিক সম্পদ ও নিরাপত্তার কারণে চলনবিল দেশীয় ও অতিথি পাখির জন্য একটি নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। তবে কিছু অসাধু লোক এই প্রাকৃতিক পরিবেশের সুযোগ নিয়ে পাখি শিকারে মেতে ওঠে। ফাঁদ পেতে প্রলুব্ধ করে পাখি ধরা এখানে বহু বছর ধরে চলে আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংগঠন তৈরির পর থেকে আমরা বহু গ্রামের শিকারিদের এই অপকর্ম থেকে সরিয়ে আনতে পেরেছি। তবে জীবিকার অজুহাতে নতুন নতুন শিকারি তৈরি হচ্ছে। চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা স্থানীয়দের সচেতন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনিক অভিযান অব্যাহত না থাকলে এটি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।’

Most Popular