Saturday, October 3, 2026
Homeবাংলাদেশ২০২৪ সালে হাসিনাকে গ্রহণ করা ছাড়া ভারতের উপায় ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী

২০২৪ সালে হাসিনাকে গ্রহণ করা ছাড়া ভারতের উপায় ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজকে ভারতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের ‘প্রায় কোনো উপায় ছিল না’।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী সম্মেলনটি আজ শুরু হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আইনি বিষয় জড়িত। এটি খুবই কাঠামোবদ্ধ।

‘এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে এবং আদালতও এতে যুক্ত। তাই কেউ আপনাকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বলতে পারবে না’, বলেন তিনি।

২০২৪ সালের আগস্টে সরকারের পতনের পর যে পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ভারতে পৌঁছেছিলেন, তা ব্যাখ্যা করে ত্রিবেদী বলেন, ভারত তাকে সেখানে নিয়ে যায়নি এবং তার আসার জন্যও প্রস্তুত ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে ভারতে নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশে যে মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই তাকে বহনকারী সামরিক উড়োজাহাজটি ভারতে পৌঁছায়।

হাইকমিশনার বলেন, ওই সময় হাসিনা তখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ বিষয়ে আমাদের প্রায় কোনো উপায় ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব ছিল।

বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছে। নয়াদিল্লি এর আগে জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

দুই দেশের বৃহত্তর সম্পর্কের ওপরও জোর দিয়ে ত্রিবেদী বলেন, এ সম্পর্ক শুধু লেনদেনভিত্তিক স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক লেনদেনের চেয়েও বেশি কিছু, এটি সাংস্কৃতিক সম্পর্ক। একজন ভালো প্রতিবেশী সবসময় একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থ মূল্যায়নে দেশটি সক্ষম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এবং দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তিতে থাকা পারস্পরিক আস্থার ওপর ভারতের পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আস্থা-বিশ্বাস এবং বন্ধনই বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে বিশেষ করে তুলেছে।
 

Most Popular