ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে ৫০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা, অতিশী ও সঞ্জয় সিং এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা রয়েছেন।
আজ শুক্রবার ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে এ বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই), ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এনএসইউআই) ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের সদস্যরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল আইসা, রাজ্যসভার সদস্য মনোজ ঝা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ।
কর্মসূচি শুরুর পর বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন ব্যারিকেড অতিক্রম করে যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে যান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও আইসার নেত্রী নেহা বোরাও। নেহা বোরাকে আটকের সময় নারী পুলিশ সদস্যদের নামফলক না থাকার বিষয়টিও দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় পুলিশের বাস থেকে মুক্ত হওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন নেহা বোরো। তিনি বলেন, ‘মানুষ ঐক্যবদ্ধ। রাস্তায় মানুষ বারবার আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্ত করে দিচ্ছেন।’
The people are united. Detained protestors are repeatedly being released by the people on the streets!
Jantar Mantar 2.0 is on!
Gyanesh will soon be gone! https://t.co/wJP9vGFC8b
মুম্বাইয়ে ককরোচদের বিক্ষোভ
এদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কেও বিক্ষোভের আয়োজন করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সিইসির পদত্যাগ দাবি করে আসছেন। তার অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী কাজ করছেন।
তবে শিবাজি পার্কে ককরোচদের বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি মুম্বাই পুলিশ। তা সত্ত্বেও আজ পার্কের বাইরে জড়ো হতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সরঞ্জামসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং মোবাইল নজরদারির বিশেষ যানও মোতায়েন করা হয়।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস শিবাজি পার্কে পৌঁছে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। দলটির ‘জেল ভরো’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে যান তিনি। এ সময় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশকে খরায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মানুষের জন্য ত্রাণ কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান সৌরভ দাস।
সিজেপি জানিয়েছে, তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। দলটি ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিত করারও দাবি জানিয়েছে।
এসআইআর নিয়েই মূলত অভিযোগ
ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে রয়েছেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। বিরোধীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদেই তার পদত্যাগ দাবি করে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে বিক্ষোভ হচ্ছে।
দিল্লিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি এবং মুম্বাইয়ে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে শুক্রবার দুই শহরেই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
