একই ঘটনায় দুই রাজনৈতিক দলের ভিন্ন অবস্থান তাদের মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদীয় আসন বহাল থাকা এবং বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের বিষয়টি তুলনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গাজী নজরুল ইসলাম দলের বিরুদ্ধে ভোট দেননি এবং সংসদ থেকেও পদত্যাগ করেননি। তাই শুধু জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হলেও তার সংসদীয় আসন বহাল আছে।’
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ামের মরদেহ উদ্ধার হলে তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়।
তবে তার আগেই গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গত ২২ জুলাই ‘নৈতিক অসদাচরণের’ কারণে গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন গাজী নজরুল।
অন্যদিকে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় তারেক রহমানের শক্ত অবস্থান ও কঠোর সিদ্ধান্তের প্রতি ইঙ্গিত করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফেরদৌসীর পদত্যাগ এ বার্তা দিয়েছে যে, এ ধরনের আচরণ সব সময় মেনে নেওয়া হবে না।’
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, শৃঙ্খলা প্রয়োজন। রাজনৈতিক শৃঙ্খলা না থাকলে একটি দেশেও শৃঙ্খলা থাকতে পারে না।’
তার মতে, রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়—এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শীর্ষ নেতাদেরও গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে, ফেরদৌসীর পদত্যাগ দলের নেতাকর্মী ও নাগরিকদের কাছে সেই বার্তা দিয়েছে।
