স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে ও অসুস্থ শিশুর কিছু পরীক্ষা করাতে ভোরে বানিয়াচং থেকে হবিগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ডে গিয়েছিলেন শাহানা আক্তার। সঙ্গে ছিল তার ছোট ছোট সন্তান। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে জানতে পারেন, জেলার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ।
শাহানা আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে এত দূর এসে যখন জানতে পারলাম সব বাস চলাচল বন্ধ, তখন নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষ, যাতায়াতের জন্য গণপরিবহনের ওপরই নির্ভর করতে হয়।’
শাহানার মতো শত শত যাত্রী আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এমন ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিবহন শ্রমিকদের মারধর ও বাস আটকে রাখার অভিযোগ জানিয়ে এর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছেন হবিগঞ্জের পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা।
এর আগে গত মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল।
ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার কোনো গণপরিবহন ছেড়ে যায়নি। ফলে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ডে এসে আটকা পড়েছেন অনেক যাত্রী।
সিলেটগামী যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, আগে থেকেই ট্রেনের টিকিট কেটে রেখেছিলাম। কিন্তু বাস বন্ধ থাকায় হবিগঞ্জ থেকে শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে যেতে পারছি না। জরুরি কাজে সিলেট যেতে হবে। কিন্তু এখন কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
নাসরিন আক্তার নামে আরেক যাত্রী বলেন, সকাল থেকে বাসস্ট্যান্ডে ঘুরছি। শিশু সন্তান নিয়ে পথে পথে হয়রানি পোহাচ্ছি। এভাবে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা ঠিক না।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের চালক ও শ্রমিকদের মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহনের শ্রমিক-মালিকরা শেরপুরে আটকে রেখে মারধর ও বাস ভাঙচুর করেছেন।
তার দাবি, বর্তমানে হবিগঞ্জের তিনটি বাস এসএমএস পরিবহনের লোকজন নিজেদের কার্যালয়ের সামনে আটকে রেখেছেন।
সোহেল বলেন, এর প্রতিবাদে এবং আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জের বাসগুলো নির্বিঘ্নে চলাচলের দাবিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলেও জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন।
তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল এবং পরিস্থিতিও অনেকটা শান্ত ছিল। তবে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের লোকজন শ্রীমঙ্গলে এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। তারাই পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
