ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করার স্বীকৃতি পেলেন নাহিদ রানা। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আইসিসির সেরা পুরুষ খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের এই তরুণ গতিময় পেসার।
‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ হওয়ার পথে রানা পেছনে ফেলেন ওমানের অধিনায়ক জতিন্দর সিং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেস বোলার অজয় কুমারকে। খবরটি বৃহস্পতিবার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে।
এপ্রিল মাসে কিউইদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মোট ৮ উইকেট শিকার করেন ডানহাতি রানা। তার গড় ছিল ১৬.৭৫ এবং ইকোনমি রেট ছিল ৪.৪৬। এর আগে গত মার্চ মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজেও তিনি ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। অর্থাৎ বল হাতে আগুন ঝরানোর পাশাপাশি ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন ২৩ বছর বয়সী এই তারকা।
সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের পর চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেন রানা। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মাননা পেলেন তিনি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রানা বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে ভালো পারফর্ম করে আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় হতে পারাটা দারুণ এক অনুভূতি। দেশের মাটিতে পারফর্ম করাটা এই সিরিজটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে এবং এটি আমার কাছে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘পুরোটা সময় পাশে থাকা ও বিশ্বাস রাখার জন্য আমি সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আশা করি, দলের আরও জয় এবং স্মরণীয় মুহূর্তে অবদান রাখতে পারব।’
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে রানা ছিলেন ম্লান। তিনি ৬৫ রান খরচায় মাত্র ১ উইকেট নিতে পারেন। তবে একই ভেন্যুতে পরের ম্যাচেই তিনি স্বরূপে ফেরেন এবং মাত্র ৩২ রানের বিনিময়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব অর্জন করেন।
রানা সেদিন পাওয়ার প্লেতেই ২ উইকেট নিয়ে সফরকারী কিউইদের চাপে ফেলেন। এরপর আরও ৩ উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ড মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায়।
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতেও রানার দাপট অব্যাহত থাকে। সিরিজ নির্ধারণী লড়াইটিতে তিনি আরও ২টি উইকেট দখল করেন, যা বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিততে সাহায্য করে। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন। সেই ধারায় এবার আইসিসির মাসসেরার খেতাব জিতলেন তিনি।
