Tuesday, September 29, 2026
Homeখেলাপাজলের শেষ দুই-তিনটি টুকরো খুঁজছি আমরা: হামজা

পাজলের শেষ দুই-তিনটি টুকরো খুঁজছি আমরা: হামজা

ফলাফল সব সময় একটি দলের পুরো গল্প বলে না। সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে যে পরিবর্তনের ছাপ দেখছেন, সেটিই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হামজা চৌধুরীর কাছে। গত দেড় বছরের পথচলায় উত্থান-পতন কম দেখেননি তিনি। তবে তার বিশ্বাস, বাংলাদেশ এখন এমন একটি দলের রূপ নিচ্ছে, যেখানে বড় দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধানটা মাঠে সব সময় বোঝা যায় না। শুধু পাজলের শেষ দুই-তিনটি টুকরো ঠিক জায়গায় বসাতে পারলেই ছবিটা পূর্ণ হবে।

‘আমার মনে হয়, আমরা এখন পাজলের শেষ দুই-তিনটি টুকরো খুঁজছি। আশা করি, সেগুলো নিখুঁতভাবে একসঙ্গে বসাতে পারব,’ সিঙ্গাপুর ম্যাচের পর ফিফাকে বলেছেন হামজা।

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম দেড় বছরকে ‘অসাধারণ অভিজ্ঞতা’ হিসেবেই দেখছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার। তবে ভালো সময়ের তুলনায় কঠিন মুহূর্তই এখন পর্যন্ত বেশি এসেছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। তবু দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা হারাচ্ছেন না হামজা, ‘ব্যক্তিগতভাবে এটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আলহামদুলিল্লাহ। অবশ্যই উত্থান-পতন ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন পর্যন্ত ভালো সময়ের চেয়ে কঠিন মুহূর্তই সম্ভবত বেশি এসেছে। কিন্তু আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং আরও ভালো কিছুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দলটাকে তৈরি করছি।’

এশিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম। তাই মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরের মতো প্রতিষ্ঠিত দলের বিপক্ষে ম্যাচকে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাবেই দেখছেন না হামজা। বরং এমন ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই এবং বড় দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে শেখাকেই উন্নতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন তিনি, ‘আমার মনে হয়েছে, আজ (সোমবার) আমরা আরও ভালো ছিলাম। মালয়েশিয়া খুব ভালো দল। তাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে আমরা খুব ধীরে শুরু করেছিলাম, তাই তাদের মতো মানসম্পন্ন দলের বিপক্ষে ফিরে আসাটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল।’

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। কাগজে-কলমে এই ব্যবধান বড় হলেও মাঠে সব সময় সেটি চোখে পড়ে না বলেই মনে করেন হামজা, ‘আমাদের জন্য এই পর্যায়ে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারাটা দারুণ। র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা আমাদের ওপরে। কিন্তু মাঠের কিছু কিছু মুহূর্ত দেখলে সেই ব্যবধানটা আসলে বোঝা যায় না। তাই নিশ্চয়ই আমরা কিছু একটা ঠিকভাবেই করছি।’

হামজার কাছে সেই ‘কিছু একটা’ আরও পরিণত করার জন্য এখনো কয়েকটি জায়গায় উন্নতি প্রয়োজন। তার ভাষায়, বাংলাদেশের পাজলের সমাধান প্রায় তৈরি। পুরো ছবিটা ফুটিয়ে তুলতে এখন দরকার শুধু শেষ কয়েকটি টুকরো। সেই পূর্ণ ছবির দিকে তাকিয়ে এখন নভেম্বরের ঘরের টুর্নামেন্ট সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন হামজা। ঘরের মাঠে বড় একটি প্রতিযোগিতা সামনে রেখে এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতে চান তিনি ও তার সতীর্থরা।

‘নভেম্বরে ঘরের মাঠে আমাদের বড় একটি টুর্নামেন্ট আছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেটিকে সামনে রেখে তৈরি হচ্ছি এবং আশা করি সেখানে কিছু সাফল্য অর্জন করতে পারব,’ বলেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার।

বাংলাদেশের সঙ্গে হামজার পথচলায় মাঠের বাইরেও এসেছে নতুন অভিজ্ঞতা। ইন্দোনেশিয়ায় এবারই প্রথম গেছেন তিনি। তার বন্ধু ও পরিবারের কয়েকজন আগে দেশটিতে গিয়ে ভালো অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। এবার নিজেও ইন্দোনেশিয়ার আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন হামজা, ‘আমার খুব ভালো লেগেছে। সত্যিই ভালো! ইন্দোনেশিয়ায় এটাই আমার প্রথমবার। আমার অনেক বন্ধু ও পরিবারের কয়েকজন আগে এখানে এসেছে। তারা শুধু ভালো কথাই বলেছে। তাই নিজে এসে দেখাটাও দারুণ ছিল।’

শুধু গরম আবহাওয়াটা কিছুটা কঠিন মনে হয়েছে জানিয়ে হামজা বলেন, ‘মানুষগুলো খুব বন্ধুবৎসল। আবহাওয়াটা আমার জন্য একটু বেশি গরম। তবে সব মিলিয়ে খুব উপভোগ করেছি। আশা করি, আবারও আসতে পারব এবং ইন্দোনেশিয়ার অন্য জায়গাগুলোও ঘুরে দেখতে পারব।’

বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচে গ্যালারিতে আরও বড় সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেই পরিবেশও দলের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি, ‘আমি সত্যিই ম্যাচটির অপেক্ষায় আছি। জানি, গ্যালারিতে আরও বেশি দর্শক থাকবে। তাই দল হিসেবে এটি আমাদের জন্য আরেকটি মূল্যবান অভিজ্ঞতা হবে।’

ইন্দোনেশিয়া দলে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা বেশ কয়েকজন ফুটবলার রয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের জন্য এটিও নিজেদের উন্নতি মাপার আরেকটি পরীক্ষা। হামজার ভাষায়, ‘ইন্দোনেশিয়া খুব ভালো দল। তাদের অনেক খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলে। তাই আমাদের জন্য এটিও কঠিন পরীক্ষা হবে। তবে আমরা এখানে এসেছিই এই কারণে, এই মুহূর্তে আমাদের চেয়ে ওপরে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে।’

Most Popular