১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির দিন ৯ জুন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।
এর ফলে ওই তারিখ পর্যন্ত তাদের নির্বাচনী ফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার আসলাম ও সারোয়ারের করা দুটি আলাদা আবেদন নথিতে (রেকর্ডে) রেখেছেন।
ওই আবেদনে তারা তাদের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম-৪ এবং সারোয়ার আলমগীর চট্টগ্রাম-২ আসনে নির্বাচনে জয়লাভ করেন।
তবে আপিল বিভাগের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। কারণ, তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হাইকোর্টের নির্দেশনার বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো এখনো সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
আসলাম ও সারোয়ারের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী ও মুহাম্মদ নুরুল আমিন হাইকোর্টের নির্দেশনার বিরুদ্ধে এই আপিলগুলো দায়ের করেছিলেন।
আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দেন। তবে আদালত রুল জারি করেন, বিচারাধীন আপিলগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
পরে আসলাম ও সারোয়ার ৩ ফেব্রুয়ারির নির্দেশনা সংশোধন এবং তাদের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ ও নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের ব্যবস্থা করার জন্য ইসিকে নির্দেশ দিতে আপিল বিভাগে দুটি আলাদা আবেদন করেন।
গতকাল (বুধবার) শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার আসলাম ও সারোয়ারের সংশোধনীর আবেদনের ওপর আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য করেন।
আজ সর্বোচ্চ আদালত সংশোধনী আবেদনের ওপর কোনো আদেশ দেননি, বরং আবেদনগুলো নথিভুক্ত রেখে হাইকোর্টের নির্দেশনার বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য ৯ জুন তারিখ ধার্য করেছেন।
ফলে ৯ জুনের আগে আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল ইসি প্রকাশ করতে পারবে না বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন আনোয়ার সিদ্দিকী ও নুরুল আমিনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
গতকাল শুনানি চলাকালীন আসলামের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নিহাদ কবির ও মোস্তাফিজুর রহমান খান, সারোয়ারের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম এবং আনোয়ার ও নুরুল আমিনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন।
