Thursday, September 24, 2026
Homeবাংলাদেশসাভারে বাসে আগুন: ক্র‍্যাবের সাবেক সভাপতি ও বাস মালিকসহ ৭০ জনের নামে...

সাভারে বাসে আগুন: ক্র‍্যাবের সাবেক সভাপতি ও বাস মালিকসহ ৭০ জনের নামে মামলা

ঢাকার সাভারে সড়কের পাশে রাখা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) সাবেক সভাপতি মো. কামরুজ্জামান খান ও বাস মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয়সহ ৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্বাস উদ্দিন গত সোমবার রাতে বিস্ফোরক আইনে মামলাটি করেন। এতে ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের ‘নেতাকর্মী ও সমর্থক’ হিসেবে অজ্ঞাতপরিচয় ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ রয়েছে। আর আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সব কার্যক্রমও নিষিদ্ধ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কামরুজ্জামান সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং বাস মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয় দলটির সমর্থক।

এজাহারের একটি কপি পেয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।

মামলায় তিনজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা আকাশের ফোন নম্বরটি ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা আরিফুল হোসেন ঝালকের।

দ্য ডেইল স্টারকে তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না এবং আকাশের সম্পৃক্ততার বিষয়েও কিছুই জানি না।

পরে আরিফুল হোসেন বলেন, ‘আকাশ আমার সহযোগী ও সাভার থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক। তবে মামলায় আমার নিজের ফোন নম্বর কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তা আমি জানি না।’

আরেক সাক্ষী মানিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে এক পুলিশ কনস্টেবলকে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার রাত ২টা ৪০ মিনিটে সাভারের রেডিও কলোনি স্টাফ কোয়ার্টারের কাছে ৬০ থেকে ৭০ জনকে একটি বাসে পেট্রলবোমা ছুড়তে দেখেন এসআই আব্বাস উদ্দিন। এ সময় তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিলেন। পুলিশ দেখে অধিকাংশ আসামি পালিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হৃদয় অসৎ উদ্দেশ্যে বাসটির ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্স খুলে সেটি সেখানে পার্কিং করে রেখেছিলেন।

এসআই আব্বাসের দাবি, হৃদয়, মুরাদ জং ও বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম মণ্ডলের নির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এই হামলা চালানো হয়। আসামিদের একজন সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল রানাকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি পেট্রলবোমা ছোড়ার কথা স্বীকার করেছেন।

এদিকে, মামলায় নিজের নাম আসায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য ও টাইমস অব বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুজ্জামান খান।

ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকায় কাজ করি। বহু বছর ধরে এখানেই বসবাস করছি। আমি নিজেকে একজন পেশাদার সাংবাদিক মনে করি। সাভারে আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার নাম ছিল, তবে আমি কখনোই দলে সক্রিয় ছিলাম না। সাভারের সাংবাদিক সহকর্মীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, মামলায় আমার নাম রয়েছে।’

এক বিবৃতিতে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, মামলায় কামরুজ্জামানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগের বিষয়।

ডিআরইউ নেতারা বলেন, ঘটনায় কামরুজ্জামানের কথিত সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ বা প্রমাণ রয়েছে, তা এজাহারে স্পষ্ট করা হয়নি।

সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়া সাংবাদিকদের হয়রানি না করতে আহ্বান জানান তারা ।

এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুইজন বাস মালিক ডেইলি স্টারকে বলেন, সন্ধ্যায় ঢাকায় বাসে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে আমরা নিজেদের বাসগুলো মহাসড়কের পাশে রেডিও কলোনি পাম্পে নিয়ে যান। সেখানে নৈশপ্রহরীরা বাসগুলো পাহারা দিচ্ছিলেন। তবে হৃদয়ের বাসটি পাম্পের অন্য পাশে কিছুটা দূরে ছিল। বাসটির ইঞ্জিন মেরামতের জন্য একটি মেকানিকের দোকানে নেওয়া হয়েছিল।

তারা আরও বলেন, রাত ৩টার দিকে পাম্পের কর্মীদের ফোনে জানতে পারি, বাসটিতে আগুন লেগেছে। আমরা দ্রুত সেখানে গিয়ে হৃদয়ের বাসটি জ্বলতে দেখেন। তখন পুলিশও সেখানে উপস্থিত ছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তাদের দাবি, কোনো সংগঠিত দল নয়, একজন ব্যক্তি বাসটিতে আগুন দিয়েছেন।

হৃদয়ের বাবা আলী আকবর বলেন, পরিবারকে হয়রানি করতে পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমরা ছেলেকে মামলায় জড়িয়েছে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বাদী এসআই আব্বাস উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। এ বিষয়ে সাভার থানার ওসির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, বাস মালিকের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাসটি সেখানে রেখেছিলেন। এ কারণেই তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে কামরুজ্জামান খানের নাম আসায় তাকেও আসামি করা হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক পদে রয়েছেন। তবে পরবর্তী তদন্তে কোনো আসামির এ ঘটনায় সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে তাকে অবশ্যই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

Most Popular