Thursday, September 24, 2026
Homeখেলাবাবার ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের সামর্থ্যে নাম কুড়াতে চান শেবাগ-পুত্র

বাবার ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের সামর্থ্যে নাম কুড়াতে চান শেবাগ-পুত্র

বীরেন্দ্ৰ শেবাগের ছেলে হওয়া মানেই পদে পদে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া—আর্যবীর শেবাগও সেটা ভালো করেই জানেন। মহাতারকা বাবার নামের ভার কতখানি ভারী হতে পারে, তার বড় উদাহরণ অর্জুন টেন্ডুলকার। শচীন টেন্ডুলকারের ছেলে হিসেবে অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপে ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সেই ছায়া থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে বিকশিত হতে পারেননি অর্জুন। আর্যবীর অবশ্য এ বিষয়ে সচেতন। খবরের পাতায় বাবার নামের চেয়ে নিজের ব্যাটের রানটাই যে বেশি কথা বলুক, এটাই চান ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ।

ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেক সিরিজটি তাকে ভাবনার অনেক রসদ দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে ২৮, দ্বিতীয়টিতে রানআউট হওয়ার আগে ৪৭ আর তৃতীয়টিতে ৩৪ রান করেন তিনি। উইকেটে থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে না পারার আফসোস রয়েছে তার।

ভারতীয় গণমাধ্যম স্পোর্টস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্যবীর বলেন, ‘তিনটা ম্যাচেই উইকেটে জমে গিয়েও ইনিংস বড় করতে পারিনি। ক্রিকেট পরিমণ্ডলে নিজের একটা নাম তৈরি করতে আর সম্মান অর্জন করতে হলে বড় রানের কোনো বিকল্প নেই, সেটা এখন বুঝতে পারছি।’

বিখ্যাত পদবির কারণে যে অতিরিক্ত নজর থাকে, সেটাও কীভাবে সামলাতে হয় তা নিয়ে তার চিন্তাভাবনা পরিষ্কার, ‘বাবার নাম এবং তার অর্জনে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এই পদবির কারণে আমার ওপর বাড়তি কোনো চাপ অনুভব করি না। কে ভালো বলল আর কে সমালোচনা করল—এসব মন্তব্য আমাকে স্পর্শ করে না।’

ছেলের এমন সহজ মানসিকতা তৈরিতে বীরেন্দ্র শেবাগের পরামর্শও বড় ভূমিকা রাখছে। এমনকি অভিষেকের দিন বাবা যে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছিলেন, আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরার পর দলের ম্যানেজারের মুখ থেকে প্রথম তা জানতে পারেন আর্যবীর। সে রাতে ফোনে বাবা শুধু বলেন, কোনো কিছু না ভেবে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যেতে।

আর্যবীরের ভাষায়, ‘বাবা সবসময় বলেন ব্যাটিং সহজ রাখতে—যে বলে মারা সম্ভব সেটা মারো, ছেড়ে দেওয়ার বল ছেড়ে দাও, আর যা ডিফেন্ড করার তা সোজা ব্যাটে খেলো। টেকনিকের চেয়ে মানসিকভাবে শক্ত থাকার ওপরই বাবা বেশি জোর দেন।’

শেবাগ-পুত্রের শেখার পথটা এখনও অনেক লম্বা। উইকেটে থিতু হয়ে সেটাকে বড় ইনিংসে রূপ দেওয়া এবং চারপাশের শোরগোল সরিয়ে রেখে খেলায় মনোযোগ ধরে রাখার শিক্ষাটা তিনি ধীরে ধীরে পাচ্ছেন। আপাতত নিজের মন্ত্রটা খুব সহজ রাখছেন এই তরুণ, ‘মাথায় চিন্তা যত পরিষ্কার থাকবে, মাঠের পারফরম্যান্স তত ভালো হবে।’

 

Most Popular