Thursday, September 24, 2026
Homeখেলাকেন রিয়াল মাদ্রিদে না গিয়ে বার্সেলোনাকে বেছে নিলেন, জানালেন রদ্রি

কেন রিয়াল মাদ্রিদে না গিয়ে বার্সেলোনাকে বেছে নিলেন, জানালেন রদ্রি

সবশেষ গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময় বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনাকল্পনার কমতি ছিল না। স্পেনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ— উভয়ই তাকে দলে টানতে আগ্রহী ছিল। শেষ পর্যন্ত রিয়ালকে টেক্কা দিয়ে এই তারকা মিডফিল্ডারকে চুক্তিবদ্ধ করে বার্সা।

তবে রিয়ালে যোগ দেওয়ার জোর সম্ভাবনা যে সত্যিই ছিল, সেটি এবার নিজেই নিশ্চিত করলেন রদ্রি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম কোপকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানালেন, কেন রিয়ালের প্রস্তাব ফিরিয়ে বার্সেলোনাকে বেছে নিয়েছেন।

গত মাসে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে বার্সায় নাম লেখান রদ্রি। তাকে পেতে ট্রান্সফার ফি হিসেবে কাতালানদের খরচ করতে হয় ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়েছে চার বছরের জন্য। অর্থাৎ আগামী ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ক্যাম্প ন্যুর দলটিতে থাকবেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে রদ্রি জানান, রিয়াল শুরু থেকেই তার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছিল। দলবদলের আলোচনা নিয়ে লস ব্লাঙ্কোদের কর্তৃপক্ষের পেশাদার আচরণেরও প্রশংসা করেন তিনি। রদ্রি বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, রিয়াল মাদ্রিদ শুরু থেকেই আগ্রহ দেখিয়েছিল এবং তাদের আচরণ ছিল অনুকরণীয়। তারা যে একজন খেলোয়াড়কে সত্যিই পেতে চায়, সেটি তাদের প্রস্তাবে স্পষ্ট ছিল। আমি রিয়াল মাদ্রিদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাকে দলে টানার বিষয়ে নিজেদের প্রবল আগ্রহ ও উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছিল, যা স্বাভাবিকভাবেই আমার সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টিকে কঠিন করে তুলেছিল।’

রিয়াল তাকে পেতে শতভাগ চেষ্টা করেছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেন, ‘শতভাগ ঝাঁপিয়ে পড়া বলতে কী বোঝায় তা আমি ঠিক জানি না। তবে এটা স্পষ্ট যে, তারা আমাকে পেতে বেশ আগ্রহী ছিল।’

রিয়ালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সেই তালিকায় ক্লাবটির সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ছিলেন কি না, তা প্রকাশ করতে অবশ্য রাজি হননি রদ্রি।

রিয়ালের এমন জোরালো আগ্রহ ও প্রস্তাবের পরও শেষ পর্যন্ত কেন বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছেন, সাক্ষাৎকারের সেই ব্যাখ্যাও দেন রদ্রি। তিনি বলেন, ‘আমার সিদ্ধান্তটি মূলত ফুটবলীয় কারণে নেওয়া। কোথায় আমি সবচেয়ে বেশি উন্নতি করতে পারব, দলের জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারব এবং একদল তরুণ খেলোয়াড়কে নেতৃত্ব দিতে পারব— এসব বিষয় বিবেচনা করেছি। আমি যেভাবে ফুটবলকে বুঝি, সেটির সঙ্গে বার্সেলোনার ধরন মিলে যায়। এই দলবদলে কোনো আবেগ বা টাকার বিষয় জড়িত ছিল না।’

চলমান ২০২৬-২৭ মৌসুমে রীতিমতো উড়ছে বার্সা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আট ম্যাচ খেলে সবকটিতেই দাপটের সঙ্গে জিতেছে তারা। প্রতিপক্ষের জালে ক্লাবটি গোল করেছে মোট ৩৬টি। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে এই আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সের পেছনে বড় অবদান রেখেছেন রদ্রি।

Most Popular