‘মা’ একটি ছোট শব্দ, অথচ এর ভেতর লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় ও সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ত্যাগের গল্প। একজন সন্তানের জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার নাম মা। জীবনের প্রতিটি ধাপে, সাফল্য কিংবা ব্যর্থতায় সন্তানের পাশে থাকেন তিনিই।
বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে দেশের চার জনপ্রিয় তারকা চঞ্চল চৌধুরী, মিথিলা, তানজিকা আমিন এবং সিয়াম আহমেদ স্মরণ করেছেন তাদের জীবনে মায়ের অবদান, ভালোবাসা ও ত্যাগের কথা। তাদের কথায় উঠে এসেছে সংগ্রাম, অনুপ্রেরণা, সাহস আর নিঃশর্ত মমতায় ভরা একেকজন মায়ের প্রতিচ্ছবি।
আমার মা একজন শিক্ষক। তিনি অসম্ভব পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান মানুষ। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। শুধু আমার জন্য নয়, পরিবারের সবার জন্যই তিনি অনেক করেছেন।

বিশেষ এই দিনে মায়ের প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। যদিও আমি সবসময়ই মাকে ভালোবাসি, তবে মা দিবসে সেই অনুভূতি আরও বেশি করে প্রকাশ করতে ইচ্ছে করে।
আমার কাজের প্রতি ভালোবাসা, পরিশ্রম করার মানসিকতা—সবই মায়ের কাছ থেকে শেখা। কোনো কাজের সঙ্গে লেগে থাকা এবং সফলভাবে শেষ করার অভ্যাসটাও তার কাছ থেকেই পেয়েছি।
মা আমার অনুপ্রেরণা। মা আমার কাছে সবকিছু। তার অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। মায়ের তুলনা শুধু মায়ের সঙ্গেই হয়।
আমার মা আমার জীবনের অনেক বড় অংশজুড়ে আছেন। ক্যারিয়ার থেকে ব্যক্তিজীবন—সবখানেই তার অবদান সবচেয়ে বেশি।
মা চাকরি করার পাশাপাশি সংসারও সামলেছেন। সকালে অফিসে যেতেন, আবার ফিরে এসে সংসারের সব দায়িত্ব পালন করতেন। তাকে দেখেই অনেক কিছু শেখা সম্ভব হয়েছে।
মা সবসময় চাইতেন আমি যেন আত্মনির্ভরশীল হই। মেয়েরা নিজের পায়ে দাঁড়াবে, নিজের ওপর নির্ভর করবে—এটাই ছিল তার চাওয়া।
আমার দেখা সবচেয়ে ভালো মানুষ আমার মা। অভিনয় জীবন শুরুর সময়ও তার পূর্ণ সমর্থন ছিল। মায়ের ভালোবাসা, দোয়া ও সাহস নিয়েই এতদূর আসতে পেরেছি।
জীবনের কঠিন সময়গুলোতেও মা আমাকে ভেঙে পড়তে দেননি। তিনি সাহস দিয়েছেন, পাশে থেকেছেন, বলেছেন, ‘আমি আছি।’
মা কখনো রাগ দিয়ে নয়, বরং ভালোবাসা ও সাহস দিয়ে সবকিছু শিখিয়েছেন। তাই বলব, আমার মা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আমার মা সবসময় চাইতেন আমি লেখাপড়ায় ভালো করি। কারণ, মা নিজেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন এবং তিনটি বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন।
একসময় তিনি চাইতেন আমি যেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হই। পরে তার স্বপ্ন থেকেই আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই এবং বিদেশে গিয়ে আইন নিয়েও পড়াশোনা করি।
বাবাও ঢাবির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাই পরিবারের পক্ষ থেকে পড়াশোনার প্রতি আলাদা গুরুত্ব ছিল।

তবে মা কখনো চাননি আমি অভিনয়ে আসি। তিনি চাইতেন পড়াশোনা শেষ করে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ি। কিন্তু একসময় শোবিজে পথচলা শুরু হয় এবং এখনো সেই পথেই আছি।
যেদিন আমি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলাম, সেদিন মায়ের চোখে যে আনন্দ দেখেছি, সেটা কখনো ভুলব না। মনে হয়েছিল, তিনি গর্ব করে ভাবছেন, তার সন্তান কিছু একটা করতে পেরেছে।
এখনও যখন মানুষ আমাকে ভালোবাসা দেয়, তখন মা খুব খুশি হন। আর সন্তানের জন্য মায়ের চোখে সেই আনন্দ দেখতে পারাটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।
মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আমার মাসহ সব মায়ের সুস্থতা কামনা করছি।
বর্তমানে আমার মায়ের যে বয়স, তাতে সবচেয়ে বেশি দরকার সুস্থ থাকা। আমি চাই সব মা ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। কেউ যেন কখনো মাকে কষ্ট না দেয়।

আমি বিশ্বাস করি, মায়ের সেবা করা মানে পুণ্যের কাজ করা। আমরা মায়ের সঙ্গে যেমন আচরণ করব, শেষ বয়সে সন্তানের কাছ থেকেও তেমনটাই ফিরে পাব।
তাই বারবার বলব, মাকে ভালোবাসুন, মায়ের পাশে থাকুন। যার গর্ভে আমরা বড় হয়েছি, তার প্রতি ভালোবাসা ও মমতা আরও বাড়িয়ে দিন।
সবশেষে বলতে চাই, আমার ক্যারিয়ারে মা ও বাবা—দুজনেরই অবদান আছে। তবে মায়ের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না।
