আর্সেনালে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দলবদলের বাজারে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করে রেখেছে ক্লাবটি। এমনকি নতুন মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াডেই জায়গা হয়নি তার। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক আর্সেনাল তারকা ইয়ান রাইট মনে করছেন, ক্লাবটির কাছ থেকে আরও সম্মান প্রাপ্য মার্তিনেল্লির।
কভেন্ট্রির বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্সেনাল। তবে সেই ম্যাচের স্কোয়াডে ছিলেন না ২৫ বছর বয়সী মার্তিনেল্লি। এর আগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে কমিউনিটি শিল্ডের দলেও জায়গা হয়নি তার।
স্কাই স্পোর্টসকে রাইট বলেন, ‘এই মুহূর্তে মার্তিনেল্লির সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, সেটা আমাকে সত্যিই অস্বস্তিতে ফেলছে। আমি জানি তারা হয়তো তাকে ছাড়তে চায়। অনেকেই বলতে পারেন, “হ্যাঁ, এবার তাকে ছেড়ে দেওয়ার সময় হয়েছে।” কিন্তু এটা করারও একটা পদ্ধতি আছে। সে কীভাবে চলে যেতে চায়, সেটাও বিবেচনায় রাখা উচিত।’
মার্তিনেল্লির সবচেয়ে বড় অস্বস্তির জায়গা হলো, তিনি নিজেই নাকি জানেন না ক্লাবের পরিকল্পনা কী। ‘স্কোয়াডে রাখা হচ্ছে না, তার সঙ্গে কথাও বলা হচ্ছে না, সে জানে না কী হচ্ছে। আর হ্যাঁ, আমি এটা জানি, সে জানে না কী ঘটছে,’ বলেন রাইট।
আর্সেনালের হয়ে এতদিনের অবদানের কারণে মার্তিনেল্লির সঙ্গে আরও ভালো আচরণ করা উচিত বলে মনে করেন সাবেক এই তারকা, ‘এই দলের হয়ে সে যথেষ্ট করেছে। তাই এখন তার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, তার চেয়ে একটু বেশি সম্মান তার প্রাপ্য।’
২০১৯ সালে ইতুয়ানো থেকে আর্সেনালে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মার্তিনেল্লি মিকেল আর্তেতার দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৩ ম্যাচে ১১ গোলও করেছিলেন তিনি।
তবে এবার পরিস্থিতি বদলেছে। আর্সেনাল নতুন মৌসুমে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে দল আরও শক্তিশালী করেছে। মার্তিনেল্লির পছন্দের বাঁ প্রান্তে নতুন করে ক্রিস্তোস জোলিসকে আনা হয়েছে। কভেন্ট্রির বিপক্ষে অভিষেকেই নজর কেড়েছেন তিনি।
আর্সেনাল অবশ্য মার্তিনেল্লিকে ‘একঘরে’ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্লাবের বক্তব্য, দলে বিকল্প বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে বলেই তিনি স্কোয়াডে জায়গা পাচ্ছেন না। এর আগে মার্তিনেল্লির জায়গায় আরও বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকেও দলে আনার চেষ্টা করেছিল আর্সেনাল। শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করায় সেই সম্ভাবনা শেষ হয়।
রাইটের মতে, ভিনিসিয়ুস এলে মার্তিনেল্লির জন্য পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হয়ে যেত। কিন্তু এখনো তার নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ থাকা উচিত ছিল জানিয়ে বলেন, ‘ভিনিকে আনলে মার্তিনেল্লি নিজেই ভাবতে পারত, ‘‘ঠিক আছে, তারা তাকে এনেছে, জোলিসকেও এনেছে, হয়তো আমি তিন নম্বরে।’’ কিন্তু জোলিসকে আনা হয়েছে এবং অন্য পাশে নোনি মাদুয়েকে আছে, তখনও তো সে ভাবতে পারে, ‘‘এই দুজনের সঙ্গে আমি লড়তে পারি, আমার কিছু দেওয়ার আছে।’’ কিন্তু তাকে পুরোপুরি বাইরে রাখা, এটা আমাকে একটু দুঃখ দেয়।’
এদিকে আর্তেতার বক্তব্যে অবশ্য ইঙ্গিত মিলেছে, দীর্ঘদিনের খেলোয়াড়দের বিদায়ের সময় চলে আসতেই পারে। ‘সবকিছুরই শুরু আছে, শেষও আছে। যখন শেষ আসে, আমাদের দায়িত্ব হলো যতটা সম্ভব ভালোভাবে সেটি করা—খেলোয়াড়ের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা বজায় রেখে,’ বলেন আর্সেনাল কোচ।
