Saturday, August 22, 2026
Homeখেলা৬ উইকেটের আনন্দ নয়, শরিফুলের আসল চাওয়া ‘টেস্ট জয়’

৬ উইকেটের আনন্দ নয়, শরিফুলের আসল চাওয়া ‘টেস্ট জয়’

মিচেল স্টার্কের তোপে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এমন বিপর্যয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর দায়িত্বটা এসে পড়ে বোলারদের কাঁধে। সেই দায়িত্বে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন শরিফুল ইসলাম। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৩৫ রানে নিলেন ৬ উইকেট। তবে দিনের শেষে নিজের এই সাফল্য নিয়েও খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নন শরিফুল। তার কাছে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বড় দলের জয়।

ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনটা বাংলাদেশের জন্য শুরু হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর একের পর এক ব্যাটারকে ফিরিয়ে মাত্র ৬৪ রানেই গুটিয়ে দেন স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে এমন ধসের পর অস্ট্রেলিয়া যখন বড় লিডের পথে এগোচ্ছিল, তখন বল হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন শরিফুল।

দ্বিতীয় সেশনে বল হাতে এসে একে একে ফিরিয়েছেন ট্রাভিস হেড, মারনাশ লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, বাউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে। তার দুর্দান্ত স্পেলে অস্ট্রেলিয়ার রান আট উইকেটে ১৬৫-তে থেমেছে। দিন শেষে ১০১ রানের লিড নিয়েও স্বস্তিতে থাকার সুযোগ পায়নি স্বাগতিকেরা।

এমন পারফরম্যান্সের পর শরিফুলের সামনে স্বাভাবিকভাবেই এসেছে ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রসঙ্গ। কিন্তু নিজের ছয় উইকেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বারবার ফিরেছেন দলের প্রসঙ্গে। ম্যাচটা জিততে পারলেই তাঁর আনন্দ পূর্ণ হবে বলে জানিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার, ‘পাঁচ উইকেট পেয়েছি, এটা নিয়ে খুব খুশি। তবে আমি নরমালি একটা টেস্ট জিতলে এর চেয়ে অনেক বেশি খুশি হব। চেষ্টা করব আমরা যাতে দলগতভাবে খেলি, ম্যাচটা কোনোভাবে জিততে পারি।’

বাংলাদেশের ৬৪ রানে অলআউট হওয়া নিয়েও হতাশা আছে শরিফুলের। তবে সেখানেই ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন না তিনি। প্রথম দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়া লিডে থাকলেও বাংলাদেশের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেখছেন এই পেসার, ‘এখনো তো গেম শেষ হয়নি। প্রথম দিন গেছে। হ্যাঁ, আমরা ব্যাটিংয়ে একটু, আজকে আমাদের হালত একটু খারাপ গেছে। কিন্তু তারাও কিন্তু তাদের কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়ার মতোই আছে। ইনশাআল্লাহ দেখা যাক কী হয়, সেকেন্ড ইনিংসে কতটুকু উপরে দাঁড়াতে পারি।’

ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর বোলিংয়ে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে কন্ডিশনেরও বড় ভূমিকা দেখছেন শরিফুল। নতুন বলে উইকেটে বেশ কিছুক্ষণ সুইং ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘এখানে আপনারাও দেখছেন, খেলা বসে, নিউ বলে একটু সবসময় সুইং করতেছিল, অনেকক্ষণ ধরে। ওটাও আমরা অ্যাডভান্টেজ হিসেবে কাজে লাগিয়েছি।’

প্রথম দিনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল স্টার্ক ও শরিফুলের সমান ছয় উইকেট নেওয়া। যে বোলারের সুইং শরিফুল নিজেও পছন্দ করেন, সেই স্টার্কই বাংলাদেশের ইনিংস ধসিয়ে দিয়েছিলেন সকালে। পরে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে স্টার্ককেই বোল্ড করে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন শরিফুল।
 

Most Popular